খাটে মোবাইল ফোন রেখে ‘চার্জ’ দিচ্ছিলেন তিনি। খোলা জানলা দিয়ে সেই মোবাইল হাতিয়ে নিয়েছিল দুষ্কৃতী। চার মাস আগের ওই ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছিলেন‌ চুঁচুড়ার কামারপাড়ার অঙ্কিতা নন্দী। রবিবার চন্দননগরের পুলিশ কমিশনারের দফতর থেকে তাঁকে জানানো হয়, খোওয়া যাওয়া মোবাইলটি মিলেছে। সোমবার সকালে পুলিশ লাইনে এসে মোবাইল নিয়ে যান তিনি।

শুধু অঙ্কিতাই নন, গত কয়েক মাসে খোওয়া যাওয়া শতাধিক মোবাইল উদ্ধার করে এ দিন মালিকদের হাতে তুলে দিল চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ। শ্রীরামপুরের মাহেশ বোসপাড়া বাজারে পকেটমারের খপ্পরে মোবাইল খোওয়া গিয়েছিল স্থানীয় শশীভূষণ লেনের এক যুবকের। ওই শহরেরই সুভাষ দে, নাসরিন বেগমের মোবাইলও খোওয়া গিয়েছিল। তাঁরাও এ দিন মোবাইল ফিরে পেয়েছেন‌। এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার হুমায়ু‌ন কবীর জানান, গত কয়েক মাসে মোট ৩২৫টি মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগ জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ১০৬টি উদ্ধার করেছেন কমিশনারেটের সাইবার বিভাগের আধিকারিকরা। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘‘মোবাইল ভিন্‌ রাজ্যে পাচার হয়ে গেলে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে। তবে আমাদের সাইবার বিভাগের অফিসাররা বেঙ্গালুরু, বিহার, সিকিম প্রভৃতি জায়গা থেকেও মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এনেছেন।’’ পুলিশের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অঙ্কিতা। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ চেষ্টা করলে যে অনেক সমস্যাই সমাধান করতে পারে, তার প্রমাণ পেলাম।’’

শুধু মোবাইল ফোনই নয়, এটিএম কার্ডের তথ্য জেনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লোপাটের বেশ কিছু ঘটনার কিনারা করা গিয়েছে বলেও এ দিন কমিশনারেটের কর্তারা জানান। তাঁদের দাবি, চলতি বছরে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে প্রতারিতদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। কমিশনারেটের কর্তাদের দাবি, প্রতারণার জাল বিছানো থাকে গুরুগ্রাম, দিল্লি, কেরল-সহ বিভিন্ন রাজ্যে। তবে, মোবাইল বা টাকা উদ্ধার হলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি।