বিয়ে নয়, সে এখন পড়াশোনা করতে চায়। এই তার ‘অপরাধ’! সে জন্য আগামী ৪ মে বাড়ির লোকজন তার বিয়ে ঠিক করেছিলেন। আগেভাগে খবর পেয়ে মঙ্গলবার প্রশাসনের কর্তারা মেয়েটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হলেন। তাঁদের সামনে সতেরো না-পেরনো মেয়েটিকে পরিজন মারধর করেন বলে অভিযোগ।

শেষমেশ অবশ্য মেয়েটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় প্রশাসন। বুধবার তাকে হোমে পাঠানো হয়েছে। চণ্ডীতলা-২ ব্লকের বেগমপুরের তেলিপাড়ার এই ঘটনার পরে প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, মেয়েটি নিরাপত্তার অভাবের কথা জানিয়ে বাড়ি ফিরতে চায়নি। তিনি বলেন, ‘‘মেয়েটির বক্তব্য ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। আমাদেরও মনে হয়েছে, বাড়িতে সে নিরাপদ ন‌য়। ওর বাড়ির লোক রীতিমতো মারমুখী হয়ে উঠেছিলেন।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েটি এ বারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সচ্ছল পরিবার। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। প্রথমে কাল, শুক্রবার মশাটের এক যুবকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়। মেয়েটি বিয়েতে রাজি না-হওয়ায় অভিভাবকেরা নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। পাত্রপক্ষ অবশ্য মেয়ের বয়স কম জেনে বিয়ে বাতিল করে দেয়। এরপের আগামী ৪ মে চণ্ডীতলারই আর এক যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন বাবা-মা। সেই খবর পৌঁছয় চাইল্ড লাইনে।

মঙ্গলবার দুপুরে ব্লক ওয়েলফেয়ার অফিসার বিপ্লবকুমার বিশ্বাস, চাইল্ড লাইন, থানার আধিকারিক এবং জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (ডালসা) প্যারালিগাল ভলান্টিয়ার মেয়েটির বাড়িতে যান। অভিযোগ, তাঁদের দেখেই মেয়েটির বাবা-মা রেগে যান। জানিয়ে দেন, মেয়ের বিয়ে কোন বয়সে দেবেন, তাঁরা ঠিক করবেন। চাইল্ড লাইনের আধিকারিক সুস্মিতা কোলে মেয়েটির সঙ্গে যখন কথা বলতে যান, তখন মেয়েটিকে ধমক দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

মেয়েটি এবং তার বাবা-মাকে ব্লক অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। মেয়েটি জানায়, এখনই বিয়ে নয়, সে পড়তে চায়। শেষে তার অভিভাবকেরা মুচলেকা দিয়ে জানান, সাবালিকা না হলে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন নানা। একই সঙ্গে এ-ও জানিয়ে দেন, মেয়েকে আর পড়াবেন না। এক সহপাঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠাতেই তাঁরা তড়িঘড়ি অন্যত্র মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। রাতে মেয়েটিকে চাইল্ড লাইনের আশ্রয়ে রাখা হয়। ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হয়।

মঙ্গলবার আরও দু’জনের বিয়ে রুখেছে প্রশাসন। তার মধ্যে একজন ওই ব্লকেরই কাপাসহাড়িয়ায় বাসিন্দা। প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে বছর চোদ্দোর মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়েছিল আগামী বুধবার। পরিবারটিকে নাবালিকা বিয়ের বিধিনিষেধের ব্যাপারে জানান প্রশাসনের কর্তারা। অন্য কিশোরীটির বাড়ি মশাটের আউশবালিতে। সে নবম শ্রেণির ছাত্রী। নালিকুলে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল ৭ মে। ব্লক অফিসে ডেকে মেয়েটির বাবা-মাকে বোঝানো হয়। মেয়েটিও জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না। ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে তার বাড়ির লোকেরা মুচলেকা দেন।