মাত্র তিন বছরের মধ্যে ভেঙে গিয়েছে সেতুর এক্সপ্যানশন জয়েন্ট। তাই কোনা এক্সপ্রেসওয়ের সাঁতরাগাছি সেতু ফের আংশিক বন্ধ রেখে মেরামতির কাজ শুরু হচ্ছে। যার জেরে হাওড়া শহরে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছে খোদ হাওড়া পুলিশই। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতু মেরামতির এই কাজ শুরু হবে কাল, শুক্রবার সকাল আটটা থেকে। চলবে সোমবার পর্যন্ত। ওই চার দিন সেতুর উপর দিয়ে মালবাহী গাড়ির যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাস ও ছোট গাড়ি চলাচলও।

রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বর্তমানে দিনে প্রায় এক লক্ষ গাড়ি চলাচল করে। ওই পরিমাণ গাড়ির চাপ সহ্য করতে হয় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখার রেললাইনের উপরে থাকা সাঁতরাগাছি সেতুকেও। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিলেন, এত গাড়ির চাপ নেওয়ার মতো করে ওই সেতুটি তৈরি করা হয়নি। তাই সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরেই ২০১৬ সালের মার্চে ১৬ দিন সেতুটি বন্ধ রেখে সমস্ত এক্সপ্যানশন জয়েন্ট বদলে ফেলা হয়। মেরামত করা হয় বাকি অংশও। ওই ১৬ দিন ধরে তীব্র যানজটে নাজেহাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। যানজট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। ২০১৮ সালে মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার পরে রাজ্যের বেশ কয়েকটি সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল। ওই সময়ে সাঁতরাগাছি সেতুর বেশ কিছু অংশে মেরামতির প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারেরা।

কিন্তু মাত্র তিন বছরের মাথায় এক্সপ্যানশন জয়েন্ট ভেঙে গেল কী করে?

রাজ্য সড়ক দফতরের এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘‘সেতুর উপরে বড় মালবাহী গাড়ি নিয়মিত যাতায়াত করার ফলেই এই অবস্থা হয়েছে বলে মনে হয়। তবে অন্যান্য কারণও রয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি।’’ ওই ইঞ্জিনিয়ার জানান, সেতুর অন্য যে এক্সপ্যানশন জয়েন্টগুলি আপাতত ঠিক আছে। এখন আর সমস্যা হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

রাজ্য পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারেরা সম্প্রতি সেতুটি পরীক্ষা করে দেখেন, সাঁতরাগাছির দিকে একটা এক্সপ্যানশন জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরেই তাঁরা হাওড়া সিটি পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন, চার দিন সেতুর একাংশ বন্ধ রেখে মেরামতির কাজ করা হবে। বুধবার হাওড়ার ডিসি (ট্র্যাফিক) জাফর আজমল কিদোয়াই বলেন, ‘‘সেতুটি আংশিক বন্ধ রাখা ও যানবাহনের গতিপথ বদলানো নিয়ে একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে তা কার্যকর করা হবে। কোন গাড়ি কোথা দিয়ে যাবে, তা বিস্তারিত ভাবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা থাকবে।’’ 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই চার দিন কলকাতা থেকে আসা জাতীয় সড়কমুখী সমস্ত মালবাহী গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হবে আন্দুল রোড দিয়ে। ব্যবহার করা হবে হাওড়া-আমতা রোড। কলকাতামুখী বড় গাড়ি কিংবা মালবাহী গাড়ি ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে বাঁকড়া দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। একাংশ বন্ধ থাকা সাঁতরাগাছি সেতু দিয়ে ছোট গাড়ি ও যাত্রিবাহী বাস চলাচল করতে পারবে। তবে তা চালানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পুলিশ জানায়, ১২ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তার আগেই কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

হাওড়ার পুলিশ কমিশনার তন্ময় রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘এই চার দিন একটু কষ্ট হবে। তবে পুলিশ সবর্তো ভাবে চেষ্টা করবে রাস্তা যানজটমুক্ত রাখার। অতিরিক্ত বাহিনী 

নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’’ পুলিশ জানায়, কাজ চলাকালীন যাত্রীদের সুবিধার্থে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যানার দিয়ে পথ নির্দেশিকা দেওয়া থাকবে।