গঙ্গার তীর বরাবর জলের উপরে কয়েক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে জ্বলছে আগুন। কালো ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে চার দিক। সঙ্গে কটু গন্ধ। চোখ-মুখ রীতিমতো জ্বালা করছে।

গভীর রাতে এমন দৃশ্য দেখে চমকে উঠেছিলেন এলাকার লোকজন। তাঁদের মনে হয়েছিল, জঙ্গলে আগুন লাগলে যেমন হয়, অনেকটা তেমনই আগুন লেগেছে জলে ভাসমান কোনও দাহ্য বস্তুতে। কিন্তু জলের উপরে আগুন লাগল কী ভাবে? খুঁটিয়ে ঠাহর করতেই বাসিন্দাদের চোখে পড়ে, গঙ্গায় ভাসছে সিন্থেটিক তুলো ভর্তি কয়েকশো বস্তা। সেগুলিতে কেউ বা কারা আগুন লাগিয়ে জলে ভাসিয়ে দিয়েছে। আর তা থেকেই বেরোচ্ছে ওই কালো ধোঁয়া।

শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে ঘুসুড়ির বাঁধাঘাট এলাকা থেকে বেলুড়ের মাঝামাঝি অঞ্চলে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় রয়েছে একাধিক চটকল। সেগুলির তুলোর গুদাম থেকে বাতিল হওয়া তুলো বস্তাবন্দি করে আগুন লাগিয়ে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু তুলো পুড়ে গিয়েছে। কিছু আধপোড়া অবস্থায় ভেসে বেড়িয়েছে গঙ্গা জুড়ে। রাসায়নিক মেশানো সেই সিন্থেটিক তুলো থেকে দূষণ ছড়িয়েছে গোটা এলাকা-সহ গঙ্গার জলে।

এই ঘটনায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এলাকায়। এক বাসিন্দা দিলীপ সিংহ বলেন, ‘‘ওই সিন্থেটিক তুলো পুড়ে বাতাসে যে বিষ মিশেছে এবং গঙ্গার জল যে ভাবে দূষিত হয়েছে, তাতে আমরা চিন্তিত।’’ ঘটনার খবর পেয়ে হাওড়া সিটি পুলিশ ও হাওড়া পুরসভার কাছে সবিস্তার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। রবিবার সকালে হাওড়া সিটি পুলিশের লঞ্চে চেপে গঙ্গায় ভেসে থাকা পোড়া তুলোর নমুনা সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে এলাকায় চলেছে তল্লাশি অভিযান।

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘‘এ তো সাংঘাতিক ঘটনা। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ফলে জলের উত্তাপ বাড়বে। কমবে অক্সিজেনের মাত্রা। এটা মারাত্মক বেআইনি কাজ। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার ও পুর কমিশনারকে ঘটনাটি নিয়ে অবিলম্বে রিপোর্ট দিতে বলেছি।’’

হাওড়ার পুলিশ কমিশনার গৌরব র্শমা বলেন, ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা পোড়া তুলোর নমুনা সংগ্রহ করেছি। ঠিক কী ঘটেছে, সেই রিপোর্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে দেওয়া হবে। কারা এর পিছনে জড়িত, তা-ও দেখা হচ্ছে।’’ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সূত্রের খবর, আজ সোমবার এলাকায় গিয়ে সব খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত গুদাম মালিকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা ঠিক করা হবে।