লোকে বলে চাইলে বাঘের দুধও মেলে এই বাজারে। কিন্তু আগুন নেভানোর সামান্য ব্যবস্থাও মেলে না। জিটি রোড লাগোয়া ফরাসি আমলের লক্ষ্মীগঞ্জের বাজারে কাঁচা আনাজ, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে জামা, কাপড় বাজারে বিকোয় সবই। দাহ্যবস্তুরও অভাব নেই। তবে অভাব রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আর সচেতনতার। ফলে যে কোনও সময় পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে প্রায় ১০০০ টি দোকান, আশঙ্কা করেন এলাকার ব্যবসায়ীরাই।

স্থানীয়রা ছোট করে গঞ্জের বাজার বলেই ডাকেন। ৭৫ শতাংশ দোকান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চন্দননগর পুরনিগমের। বাকি ২৫ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন। বাজারের ভিতর আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আছে দু’টি ভূগর্ভস্থ জলাধার। কিন্তু তার সঙ্গেও পাইপ সংযোগের ব্যবস্থা নেই। ফলে কখনও আগুন লাগলেও ব্যবসায়ীদের ভরসা করতে হয় বালতির উপর। অভিযোগ, পুরসভা উচ্চ আলোকস্তম্ভের ব্যবস্থা করলেও অগ্নিনির্বাপণ নিয়ে তেমন কিছুই ভাবেনি গত কয়েক বছরে। 

তবে শুধু পুরসভার দোষ এমন নয়। সচেতনতার অভাব রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। বাজারের ভিতরে বেশির ভাগ দোকানই নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে রেখে দেয় বিক্রয় সামগ্রী। সাধারণের হাঁটা চলার পথ ক্রমশ দখল হচ্ছে। এক ক্রেতাদের আশঙ্কা, ‘‘বাজার করতে গেলেই হাঁটতে কষ্ট হয়। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পৌঁছতে নাভিশ্বাস ওঠে। কোনও একটা বিপর্যয় হলে কী জানি কী হবে!’’ যদিও ক্রেতা বিক্রেতা সকলেই এ জন্য দায়ী করেছেন সেই প্রশাসনকেই। তাঁদের বক্তব্য প্রশাসনের নজরদারি নেই বলেই ব্যবসায়ীরা এমন ছন্নছাড়া হতে পেরেছেন।

বাজার কমিটির সম্পাদক বলরাম বণিক বলেন, ‘‘বাজারের ভিতরের রাস্তা এমনই সঙ্কীর্ণ, যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। তবে শুধু ভিতর নয়। জিটি রোড লাগোয়া বাজারে ঢোকার মুখ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে বেআইনি দখলদাররা।’’ অভিযোগ, পরিস্থিতি এমনই যে দমকলও চাইলে ঢুকতে পারবে না ভিতরে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার পুরসভা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সুরাহা মেলেনি। 

গঞ্জের বাজারে এর আগে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তেমন বড় না হলেও সে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেও হিমসিম খেয়েছেন দমকল কর্মীরা। চন্দননগর দমকলকেন্দ্রের অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অগ্নি সুরক্ষার বিষয়টি বাজার কমিটিকে বার বার জানানো হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা নিয়ে আমাদের সংশয় রয়েছে। তবে আর টালবাহানা চলবে না।’’ তিনি জানিয়েছেন, পুরসভার সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে দফতর।

চন্দননগরের পুরকমিশনার স্বপন কুণ্ডু বলেন, ‘‘বাজার কমিটি ও দমকল বিভাগের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক হবে। অবিলম্বে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু গঞ্জের বাজার নয়, অন্য বাজার, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে।’’