দলের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সম্মেলন ডেকেছিল তৃণমূল। তাই শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যেই পান্ডুয়ার অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুল ছুটি হয়ে গেল। ওই সম্মেলন ঘিরেও অব্যাহত রইল পান্ডুয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

পান্ডুয়ায় প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা শতাধিক। শনিবার সব স্কুলই দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। কিন্তু এ দিন অধিকাংশ স্কুলই ১২টার মধ্যে ছুটি হয়ে যায় বলে অভিযোগ। শিক্ষকেরা হাজির হতে থাকেন সম্মেলনে। সম্মেলন আয়োজন হয়েছিল দু’জায়গায়। দুপুর ১টা থেকে একটি সম্মেলন শুরু হয় হারাধনচন্দ্র নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে। অন্যটি এক কিলোমিটার দূরের একটি লজে। শিক্ষকেরা ১১টা-সাড়ে ১১টা থেকে আসতে থাকেন। ফলে, স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হয় বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।

অভিযোগ অবশ্য মানতে চাননি সম্মেলনে আগত শিক্ষকেরা। পান্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা হারাধনচন্দ্র নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জিত ঘোষের দাবি, ‘‘স্কুল ছুটির পরেই সম্মেলন হয়েছে।’’ একই দাবি, তৃণমূলের জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীরও। তবে, জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘‘দেড়টা পর্যন্ত স্কুল হওয়ার কথা। কোনও শিক্ষক চলে গেলে বা স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হলে অন্যায় হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’’

হারাধনচন্দ্র নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের সম্মেলনটির আয়োজক তৃণমূল নেতা অসিত চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী তথা, পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জিত। লজের সম্মেলনটি আয়োজক পঞ্চয়েত সমিতির সহ-সভাপতি 

সঞ্জয় ঘোষ। মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্ত হাজির হন সঞ্জিতের সম্মেলনে। তাঁকে সঞ্জয় ঘোষের সম্মেলনে যেতে দেখা যায়নি। সাংসদ রত্না দে নাগ এবং মন্ত্রী অসীমা পাত্র অবশ্য দু’টি সম্মেলনেই গিয়েছিলেন। কিন্তু একই দিনে, প্রায় একই সময়ে দু’টি সম্মেলন আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 

তবে, নেতাদের কেউ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা মানতে চাননি।