যাত্রীদের কটূক্তি। মালিকের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের চাপ। এ সবই তাঁদের নিত্যসঙ্গী। তবুও ১৮ ডিসেম্বর, রবিবার দিনটা ছিল জয়নাল জমাদার, কাজল সিংহ রায়ের কাছে আর পাঁচটা রবিবারের চেয়ে একেবারে আলাদা।

দু’জনেই বাস চালান। এদিন তাঁদের সংবর্ধনা দিলেন বাস মালিকেরা। রামজীবনপুর-হাওড়া রুটে জয়নাল বাস চালাচ্ছেন ২৬ বছর। মনসুকা-হাওড়া রুটে ১৬ বছর বাস চালাচ্ছেন কাজল। তবে আর একটি বিষয়ে দু’জনের মিল রয়েছে। তা হল, তাঁদের হাতে স্টিয়ারিং কোনওদিন বেচাল হয়নি। যাত্রীদের নিয়ে হুড়মুড় করে খালে নেমে যেতে হয়নি বা কাউকে ধাক্কা মেরে তাঁর প্রাণহানিও ঘটাননি তাঁরা। যাত্রীদের শত কটূক্তিতেও মাথা গরম করেননি। তারই স্বীকৃতি হিসাবে এদিন হাওড়ার পাঁচলায় এক অনুষ্ঠানে তাঁদের সংবর্ধনা দিল বাস মালিকদের সংগঠন ইন্টার অ্যান্ড ইন্ট্রা রিজিয়ন বাস অ্যাসোসিয়েশন। সংবর্ধনা দিলেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা।

বাস মালিক সংগঠনের কর্তারা জানান, মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনা রোধে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ এর কথা প্রচার করছেন। তাতে সাড়া দিয়ে এমন চালকদের খুঁজে বের করা হচ্ছে যাঁরা এতদিন নিরাপদে বাস চালিয়েছেন। উদ্দেশ্য, তাঁদের সংবর্ধনা দিলে বাকি চালকেরাও উদ্বুদ্ধ হবেন। দুর্ঘটনা অনেকটা কমানো যাবে। অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে বাস চলাচল করে মূলত দুই মেদিনীপুর, হাওড়া এবং হুগলি জেলার বিভিন্ন রুটে। সংগঠনের কর্তারা জানান, প্রায় তিনশো চালককে নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। দুর্ঘটনা না ঘটানো, যাত্রীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার এ সবই ছিল মাপকাঠি। তাতে যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৬ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরই এটা করা হবে। বাকি চারজন হলেন, গৌতম জানা, মাজেদ আলি খান, ফিরোজ সেখ ও সুধীন পড়ুয়া।

জয়নাল বলেন, ‘‘সরকার দুর্ঘটনা রোধ করতে চাইছে বটে। তবে প্রতিটি মহকুমায় সরকারি উদ্যোগে একটি স্কুল গড়া দরকার যেখানে হবু চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেই সার্টিফিকেট থাকলে তবেই যেন ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয়।’’ প্রস্তাবটি তাঁরা পরিবহণ দফতরের কাছে লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পল্লব মজুমদার এবং রাজ্য কমিটির সদস্য প্রভাত পান।