• নুরুল আবসার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সুস্থ হওয়ার হার বাড়ছে হাওড়ায়, দাবি

Uluberia
প্রতীকী ছবি।

এক মাসে হাওড়ায় করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে চার’হাজারের গণ্ডি! সংক্রমণের গতি বাড়ায় এক মাসের মধ্যে বদলে গিয়েছে হাওড়ার করোনা-চিত্র। রাজ্য সরকারের করোনা-বুলেটিনে দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, গত ১০ দিনে সংক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে জেলায়। যদিও এই প্রবণতাকে ‘অস্বাভাবিক’ নয় বলেই মনে করছে হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য প্রশাসনের দাবি, সুস্থ হয়ে ওঠার হার বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে গড় মৃত্যুর হার একই রয়েছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ‘সেফ হাউস’ এবং কোভিড হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।

জেলায় করোনার দাপট ঠিক কতটা?

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে,  গত ৩০ জুন জেলায় মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ২,৭৭০। ঠিক এক মাসের মাথায়, অর্থাৎ ২৯ জুলাই জেলায় করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭,৩৩০।  অর্থাৎ, মাত্র এক মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪,৫৬০ জন।  পরিসংখ্যান আর-ও বলছে, ২০-২৯ জুলাই সংক্রমণ বেড়েছে হু হু করে। গড়ে দৈনিক ২২২ জন করে সংক্রমিত হয়েছেন এই সময়কালে। এই সময়ে মৃত্যুর হারও বেড়েছে। হাওড়ায় গত ১০ দিনে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তি। গড় দৈনিক মৃত্যুর হার চারের বেশি।

সংক্রমণে রাশ টানতে উলুবেড়িয়া পুরসভা-সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকে আংশিক লকডাউন বলবৎ করা হয়েছিল। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ঘোষণা মতো সপ্তাহে দু’দিন লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। তবু সংক্রমণে রাশ টানা যাচ্ছে না।

কিন্তু কেন?

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, আংশিক লকডাউন চালু হয়েছে গত ১৫ জুলাই থেকে। এর সুফল আদৌ মিলল কিনা , তা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন। কারণ, কারও শরীরে করোনার সংক্রমণ ঘটলে তা প্রকাশ পেতে লাগে বেশ কয়েকটি দিন।  তবে গত এক মাসে দৈনিক সংক্রমণ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে দৈনিক সুস্থ হওয়ার হার। গত ৩০ জুন সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন ৭৮ জন করোনা রোগী। সেই সংখ্যা ২৯ জুলাই বেড়ে হয়েছে ৩৫৪ জন।  বর্তমানে জেলায় মোট করোনা-অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ১,৯৩৮ জন। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, সুস্থ হওয়ার হার গত এক মাসে ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ শতাংশ।

সুস্থ হয়ে ওঠার হারের বৃদ্ধিকে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সংক্রমণের গতিবৃদ্ধিকেও অস্বাভাবিক মনে করছেন না স্বাস্থ্যকর্তারা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাসের বক্তব্য, ‘‘সর্বত্র জুলাই মাসে করোনা-সংক্রমণ বেড়েছে। হাওড়া তার ব্যতিক্রম হবে কেন? তবে সুস্থ হওয়ার হার যে বেড়েছে, সেটা স্বস্তির বিষয়। এটা ধরে রাখতে হবে।’’

চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, সংক্রমণ বাগে আনতে এক দিকে যেমন চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা,
তেমনই মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলাও আবশ্যক।  পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। পারস্পরিক দূরত্ব রেখে চলা এবং মাস্ক পরার উপরে আরও বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।

এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক পরা নিয়ে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে না-পারলে সংক্রমণের হার আরও বাড়বে। তাতে চিকিৎসার সমস্যা দেখা দেবে।’’

জেলা প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন এলাকায় মাইক-প্রচার করা হচ্ছে। উলুবেড়িয়া পুরসভা, বাগনানের মতো কয়েকটি জায়গায় ২৯ জুলাই পর্যন্ত আংশিক লকডাউন ঘোষণা
করা হয়েছিল। আংশিক লকডাউনের মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য, জমায়েত যতটা সম্ভব কম করা।

 

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন