জাতীয় সড়কের পাশে সার্ভিস রোড জুড়ে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে গ্যাস ট্যাঙ্কার। স্থানীয়দের ব্যবহারের জন্য তৈরি এই রাস্তার একটা বড় অংশই চলে যাচ্ছে তাদের দখলে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথ চলতি মানুষ। অভিযোগ, দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

 ছবিটা উলুবেড়িয়া থেকে পিরতলা পর্যন্ত ৬নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের সার্ভিস রোডের। এই এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। গ্রামের মানুষ সার্ভিস রোড দিয়েই যাতায়াত করেন। গ্রামবাসীরা জানান, রাস্তা জুড়ে বড় বড় ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় রোজ। স্থানীয় ভাবে যে সব ছোট গাড়ি চলে, তাদেরও অসুবিধা হয়। প্রায়ই দুর্ঘটনাও ঘটে। বীরশিবপুরের বাসিন্দা সঞ্জয় সামন্ত বলেন, ‘‘জাতীয় সড়কের দু’ধারে লোহার বেড়া দেওয়া আছে। ফলে গ্রামের মানুষরা জাতীয় সড়কে উঠতে পারেন না। গ্রামের মানুষদের যাতায়াত এবং ছোট গাড়ি চলাচলের জন্যই তৈরি হয়েছে সার্ভিস রোড। কিন্তু সেখানে বড় বড় গ্যাস ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে থাকায় গ্রামবাসীদের যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’’

উলুবেড়িয়ার বীরশিবপুরে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি বহুজাতিক সংস্থার রান্নার গ্যাসের বটলিং প্লান্ট আছে। স্থানীয়রা জানান, বটলিং প্লান্টে যথেষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। তার ফলেই সেখানে আসা ট্যাঙ্কারগুলিই এই রাস্তায় পার্কিং করা হয়। পুলিশের সঙ্গে যোগসাজসেই এই কাজ চলছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। ওই বহুজাতিক গ্যাস সংস্থার ম্যানেজার নির্মাল্য চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘আমাদের যথেষ্ট বড় পার্কিং আছে। সেখানেই আমাদের গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলি দাঁড়ায়। সার্ভিস রোডে যে গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলি দাঁড়িয়ে থাকে সেগুলো আমাদের সংস্থার গাড়ি নয়।’’

তবে হাওড়া গ্রামীণ জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তার দাবি, ট্যাঙ্কারগুলি ওই গ্যাস সংস্থারই। ওদের ট্যাঙ্কারগুলি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘প্ল্যান্টের সামনে অন্য ট্যাঙ্কার আসবে কোথা থেকে! ওগুলো ওদেরই ট্যাঙ্কার। ট্যাঙ্কারগুলিকে তাদের নিজস্ব পার্কিংয়ের মধ্যে রাখার জন্য ওই সংস্থাকেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু ফল হয়নি। পুলিশের তরফে বহুবার জরিমানা করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আবার ফিরে এসেছে। আরও বেশি করে নজরদারি চালানো হবে।’’