বাড়ি বাড়ি পুরসভার জল মেলে নিখরচায়। তাই অনেকে অপচয় করেন বলে অভিযোগ। তা ঠেকাতে জরিমানার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে উলুবেড়িয়া পুরসভা। ইতিমধ্যেই যে সব বাড়িতে জলের সংযোগ রয়েছে, সেখানে বিশেষ মিটার বসানো হচ্ছে।

জরিমানার ব্যবস্থা হলে জলের অপচয় কমবে বলে পুরকর্তাদের আশা। পুরসভার চেয়ারম্যান অর্জুন সরকার জানান, কেএমডিএ-র গাইডলাইন বলছে, একটি পরিবারের একজন দৈনিক মাথাপিছু ১০ লিটার জল ব্যবহার করতে পারেন। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উলুবেড়িয়ায় একটি পরিবার দৈনিক মাথাপিছু কত জল ব্যবহার করতে পারবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তারপরে মিটার দেখে পরীক্ষা করা হবে জল অপচয় হয়েছে কিনা।

অর্জুনবাবু বলেন, ‘‘জলের অপচয় ধরতেই মিটার বসানো হচ্ছে। মিটার তালাবন্ধ থাকবে। পুরকর্মীরাই চাবি খুলে মিটার দেখতে পারবেন। তাতে বোঝা যাবে একটি পরিবারের যতটা জল প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহার হচ্ছে কিনা। তা হলেই অপচয় বোঝা যাবে। অপচয় ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে জরিমানা করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। শীঘ্রই পুরসভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

২০১১ সাল থেকে জগদীশপুরে গঙ্গার জল তুলে শোধন করে বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করছে পুরসভা। জলপ্রকল্পটি কেএমডিএ করেছে। পরে পুরসভাকে হস্তান্তর করা হয়। তবে, সর্বত্র এখনও পাইপলাইন পাতা হয়নি। ফলে, সব বাড়িতে এখনও জলের সংযোগ দেওয়া হয়নি। পুর এলাকায় মোট ৬০ হাজার পরিবারের বাস। এ পর্যন্ত মোট ২৫ হাজার বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার জন্য পাইপলাইন পাতা চলছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর।

বাড়ি ছাড়াও পুরসভা নার্সিংহোম, শপিং মল, কারখানা প্রভৃতিতে বাণিজ্যিক ভাবে টাকার বিনিময়ে জলের জোগান দেয়। যে হেতু বাণিজ্যিক সংযোগগুলির জন্য মিটার দেওয়া আছে, তাই সেখানে জলের অপচয় হয় না বলে পুরসভার দাবি। কারণ কতটা জল ব্যবহার হচ্ছে তা মিটারে ধরা পড়ে এবং সে জন্য টাকা দিতে হয়। কিন্তু পুরসভার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গৃহস্থবাড়িতে সংযোগগুলি। কারণ, সেখানে যথেষ্ট জলের অপচয় হয় বলে পুরকর্তাদের দাবি।

পুরসভা সূত্রের খবর, যে দু’টি পাম্প হাউস থেকে জল সরবরাহ হয়, তাতে কত পরিবারকে জল দেওয়া যাবে তার হিসাব হয়েছে ২০১১ সালের জনগণনা ধরে। সেইমতো পুর এলাকায় জনসংখ্যা ২ লক্ষ ৩০ হাজার। ২০৪২ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা কতটা বাড়তে পারে, সেই হিসাব করেই জগদীশপুরের জলপ্রকল্পের ক্ষমতা স্থির করা হয়েছে। তার আগে আর নতুন করে এই প্রকল্পে সরকার কোনও বিনিয়োগ করবে না। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই জলের অপচয় রোধ করা দরকার। কারণ, পুর এলাকার সব বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হলে জলের ব্যবহার বাড়বে। অপচয় হতে থাকলে দেখা যাবে, ২০৪২ সালের সময়সীমা পর্যন্ত যত বাড়িতে জল দেওয়ার কথা, তা আর হচ্ছে না। কারণ, তা জলপ্রকল্পের ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। চুক্তি অনুযায়ী নতুন কোনও জলপ্রকল্পও পুরসভা পাবে না। ফলে, পানীয় জলের সঙ্কট হবে।