শুধুমাত্র রোগীর ঠাঁই বদল। আর সেটা দিয়েই চালু হয়ে গেল উলুবেড়িয়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। চিকিৎসকরা জানান, এমন হাসপাতাল চালু করতে গেলে অন্তত ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দরকার। প্রয়োজন বাড়তি স্বাস্থ্যকর্মীরও। কিন্তু এইসব পদের কোনওটিই পূরণ হয়নি। নিয়োগ হয়েছেন একজন রেডিওথেরাপিস্ট।

২০১৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, উলুবড়িয়া মহকুমা হাসপাতালকে সুপার স্পেশ্যালিটিতে পরিণত করা হবে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ভবন তৈরি শুরু হয়। ১০০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয় পাঁচতলা ভবন। উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে বর্তমানে ৫০০ শয্যা। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পরিণত হওয়ার পরে শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ানোর কথা ৭০০। কথা ছিল, বিভিন্ন বিভাগে এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে। রোগীরা উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে যে ধরনের চিকিৎসা পান, তার থেকে উন্নত মানের পরিষেবা পাবেন।

ভবন তৈরি হয়ে যাওয়ার পর চলতি বছরের গোড়ায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু করা হয়। সেটি ছিল প্রথম ঠাঁই বদল। কারণ মহকুমা হাসপাতালের বহির্বিভাগটিই উঠে আসে নতুন ভবনে। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শংসাপত্র এখান থেকে দেওয়া শুরু হয়। মাস দুয়েক আগে চালু হয় অন্তর্বিভাগ। এটি ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ের ঠাঁই বদল। মহকুমা হাসপাতালেরই ‘মেল মেডিসিন’ বিভাগ ও ‘ফিমেল মেডিসিন’ বিভাগের রোগীদের নতুন ভবনে তুলে আনা হয়। দু’টি মিলিয়ে রাখা হয়েছে চারশো শয্যা। তবে অপারেশন থিয়েটার এখনও আছে পুরনো ভবনে। 

এ বার রোগীদের একটা বড় অংশকে নতুন ভবনে তুলে আনার পরেই জেলা স্বাস্থ্য দফতর দাবি করছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চালু হয়ে গিয়েছে। তবে আগে যেমন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর অভাবে মহকুমা হাসপাতালের পরিষেবা অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল সেই সঙ্কট কাটেনি এখনও। অন্তর্বিভাগ চালু হওয়ার পরে যে রেডিওথেরাপিস্টকে নিয়োগ করা হয়েছে তাঁর আদতে কাজ হল, ক্যানসার রোগীদের কেমোথেরাপি দেওয়া। কিন্তু তিনি এখানে সেই বিশেষ কাজটি করতে পারবেন না বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন। আপাতত তিনি সাধারণ চিকিৎসাই করবেন। ভবিষ্যতে যদি এই হাসপাতালে অঙ্কোলজিস্ট নিয়োগ করা হয় তাহলে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ক্যানসার রোগীদের কেমোথেরাপি দিতে পারবেন।

যদিও এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভবিষ্যতে আদৌ অঙ্কোলজিস্ট নিয়োগ করা হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস নিজেই। তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যভবনের নিয়ম অনুযায়ী অঙ্কোলজিস্ট নিয়োগ করার কথা শুধু জেলা হাসপাতালে। হাওড়া জেলা হাসপাতালে একজন অঙ্কোলজিস্ট আছেন। নতুন করে কোথাও অঙ্কোলজিস্ট নিয়োগ করা হবে কি না সে বিষয়ে নির্দেশিকা আসেনি।’’

রোগীদের প্রশ্ন, তাহলে কী ভবন বদলে দিয়েই চালু করা হল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল? ভবানীদেবী বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যভবনের কাছে বিশেষষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী চেয়েছি। শীঘ্রই তাঁরা আসবেন। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চলবে তার মান অনুযায়ীই।’’