নবমীর রাতে চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা অভিজিৎ সরকারকে খুনের ঘটনায় তাঁর এক বন্ধুকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সুমন দাস নামে ওই যুবককে আগেই আটক করা হয়েছিল। বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সুমনের বাড়ি চুঁচুড়ার মিলন পল্লিতে।

পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত অপরাধের কথা কবুল করে জানিয়েছে, মদ খাওয়া নিয়ে বচসার জেরে রাগের মাথায় তারা তিন বন্ধু মিলে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত সুমনকে বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাকে ১০ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।        

নবমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি অভিজিৎ। দশমীর দুপুরে গলায় নিজেরই টি-শার্টের ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ মেলে পোলবার পাঁচরকি এলাকার একটি জঙ্গলে। তাঁর পরিবারের লোকেরা খুনের অভিযোগ দায়ের করায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। তাদের মধ্যেই ছিল সুমন।

জেরায় সুমন পুলিশকে জানিয়েছে, নবমীর রাতে অভিজিৎকে নিয়ে তারা চার জন চুঁচুড়ার কারবালা এলাকার একটি পুকুরের ধারে গিয়ে মদ খায়। অভিজিৎ প্রথমে মদ খেতে চায়নি। তারা জোর করায় সে খায়। কিন্তু তার পরে চেঁচামেচি শুরু করে। তাদের গালিগালাজও করে। লোক জানাজানির ভয়ে তারা অভিজিৎকে মোটরবাইকে চাপিয়ে পাঁচরকি এলাকায় যায়। সেখানেও বচসা চলতে থাকে। তারপরেই রাগে তারা ওই কাণ্ড ঘটায়।

ঘটনায় ছেলের বন্ধু জড়িত শুনে অবাক অভিজিতের বাবা অনিলবাবু। তিনি বলেন, ‘‘সুমন যে এই কাণ্ড করবে, ভাবিনি। ওদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।’’