রাস্তায় কাজ করার সময় দুই ব্যক্তিকে ছোবল দিয়েছিল সাপ। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওঝার বাড়িতে। তাতে বাধ সাধলেন গ্রামেরই এক যুবক। পুলিশের সাহায্যে সর্পদষ্টদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করলেন পার্থ সামন্ত ওই যুবক। শুক্রবার তারকেশ্বরের ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন তারকেশ্বরের কেশবচক পঞ্চায়েতের কেটেরা গ্রামে একশো দিনের প্রকল্পের কাজ চলছিল। সকাল ১০টা নাগাদ মেঘনাথ খামরুই এবং নির্মল সামন্ত নামে দুই শ্রমিককে সাপে ছোবল মারে। অভিযোগ, তাঁদের কেটেরা দক্ষিণপাড়ায় নিরাপদ বেরা নামে এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি মুদি দোকানি পার্থ সামন্তের কানে পৌঁছতেই তিনি দোকান ফেলে ওঝার বাড়িতে ছোটেন। ওই দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু সে কথা কেউ কানে তোলেননি। তাঁদের বিশ্বাস, ওঝার কেরামতিতেই বিষ নামবে।

পার্থবাবু অবশ্য দমে যাননি। তিনি তারকেশ্বর থানায় ফোন করেন। পুলিশ আসে। পুলিশের গাড়ি দেখে ওঝা চম্পট দেন। পুলিশের গাড়িতে চাপিয়ে সর্পদষ্টদের তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, দু’জনেরই শরীরে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। চিকিৎসা চলছে। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।

বছর আটত্রিশের পার্থবাবু জানান, সম্প্রতি মাঠে কাজ করার সময় এক ব্যক্তিকে সাপে ছোবল মারে। তিনি ওঝার কাছে ঝাঁড়ফুক করে এসে ভেবেছিলেন, বিষ নেমে গিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরে সব খুলে বলেন। তখন হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও বাঁচানো যায়নি। পার্থবাবুর কথায়, ‘‘ঘটনাটি মনে দাগ কেটে গিয়েছে। ঠিক করেছিলাম, যে ভাবেই হোক ওঁদের হাসপাতালে পাঠাতে হবে। পুলিশ দ্রুত পৌঁছনোয় তা সহজ হয়েছে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, থানায় কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে ওঝাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। লিখিত অভিযোগ হলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা (গ্রামীণ) পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘পার্থবাবু সঠিক কাজ করেছেন।’’ চেষ্টা করেও ওঝার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

হুগলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সাপে ছোবল মারলে দেরি না করে সর্পদষ্টকে হাসপাতালে আনা উচিত। সমস্ত সরকারি হাসপাতালেই সাপে কাটার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।’’ তিনি জানান, ওই যুবককে সংবর্ধিত করার কথা ভাবা হবে।