ডেঙ্গি রুখতে এলাকায় মশারি বিলি করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধায়কের গাড়ি ঘিরে মহিলারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘মশারি চাই না। আগে রাস্তাঘাট, নর্দমা ঠিক করা হোক!’

শুক্রবার দুপুরে লিলুয়ায় মশারি বিলি করছিলেন বালির তৃণমূল বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। সেই সময়ে ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়া মন্দির এলাকায় আচমকাই তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে জনা ৫০ মহিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ও নিকাশি নালা বেহাল হয়ে পড়ে আছে। তা সংস্কারে কোনও হেলদোল নেই প্রশাসনের। রাস্তার অবস্থা এমনই খারাপ যে, রাতে অ্যাম্বুল্যান্সও এলাকায় আসতে চায় না। নর্দমা উপচে কালো জলে ভাসছে এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাখি সাঁতরা বলেন, ‘‘বিধায়কের মশারি বিলির উদ্যোগটা ভাল। কিন্তু যেখানে রাস্তা আর নিকাশি নালাই বেহাল, সেখানে মশারি নিয়ে কী করব?’’ অভিযোগ স্বীকার করে বৈশালী বলেন, ‘‘লিলুয়ায় রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাস্তা সারানোর জন্য জানুয়ারিতে পুরসভায় চিঠি পাঠিয়েছি। পুরসভা টাকাও অনুমোদন করেছে। তবে বর্ষার জন্য কাজ করা যায়নি। এ বার শীঘ্রই কাজ হবে। আরও কয়েকটি রাস্তা সারাইয়ের জন্যও চিঠি পাঠাব।’’ এ দিন বেশ কিছু বেহাল রাস্তা ও নর্দমার ছবিও তোলেন বৈশালী ও তাঁর সহকারী বিজয়লক্ষ্মী রাও।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাওড়া পুরসভায় প্রশাসক বসার আগে যে কাউন্সিলরেরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরাও এলাকার উন্নয়নে তেমন কাজ করেননি। এ বিষয়ে বৈশালী বলেন, ‘‘কিছু মানুষ কাজ করেছেন, কয়েক জন আবার করেননি। বাসিন্দারা অনেকে ‘দিদিকে বলো’-তেও অভিযোগ জানিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, যাঁরা কাজ করতে না চেয়ে শুধু পদ চান, তাঁদের সঙ্গে কোনও ভাবেই মুখ্যমন্ত্রী সহযোগিতা করবেন না।’’