দিন তিনেক আগে বিক্ষোভ হয়েছিল পান্ডুয়ার সরাই-তিন্না পঞ্চায়েতে। তার পরেই প্রধান কাজ থেকে দু’মাস ছুটি চাওয়ায় শাসকদলের সঙ্গে সিপিএমের চাপান-উতোর শুরু হয়েছে।

প্রধান নারায়ণ দেবনাথ সিপিএমেরই। শুক্রবার পঞ্চায়েত সচিবের কাছে ছুটির আবেদনপত্রে তিনি জানিয়েছেন, ‘কাজের চাপে আমি শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ’। তবে, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নারায়ণবাবু বলেন, ‘‘তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা আমাকে ওঁদের দলে যোগ দিতে বলেছিলেন। রাজি না-হওয়ায় নানা অছিলায় পঞ্চায়েতে অশান্তি করা হচ্ছে। তাই কিছু দিন সরে থাকতে চাইছি।’’ এলাকার সিপিএম বিধায়ক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘‘সরাই-তিন্না পঞ্চায়েত জোর করে নিজেদের দখলে নিতে চাইছে তৃণমূল। নারায়ণবাবু-সহ আমাদের দলের অন্য সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’

অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা, তৃণমূলের মহম্মদ সেবগাতুল্লাহ্। তিনি বলেন, ‘‘প্রধান ছুটি চাইছেন শুনছি। এটা ওঁর নিজের ব্যাপার। আমরা ওঁকে কোনও চাপ দিইনি।’’

শুক্রবার সকালে নারায়ণবাবু দফতরে ঢুকতেই শাসকদলের কিছু কর্মী-সমর্থক তাঁকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। রাস্তা সংস্কার থেকে শুরু করে একশো দিনের কাজের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। পঞ্চায়েত ভবনের মূল দরজায় তালাও লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পরে বিক্ষোভকারীরা ফের পঞ্চায়েতে ঢুকে নারায়ণবাবুকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এরপরই তিনি ছুটির আবেদন করেন। সেই দরখাস্ত খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য।

বিরোধী দলনেতার দাবি, ‘‘একশো দিনের কাজ চাইতে শুক্রবার কিছু মানুষ পঞ্চায়েতে গিয়েছিলেন। তবে, কেউ তালা দেয়নি। প্রধান মিথ্যা বলছেন। উনি নিজেই উন্নয়নের কাজ করতে ব্যর্থ। আমাদের উপর তার দায় চাপাতে চাইছেন।’’

ওই পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৮। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিপিএম ১২টি আসনে জেতে। তৃণমূল এবং বিজেপি ৩টি করে আসন পায়। কয়েক মাস আগে সিপিএমের এক সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। পান্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতি এবং ব্লকের সিপিএমের হাতে থাকা একাধিক পঞ্চায়েত তৃণমূল দখল করেছে। সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, ভয় এবং লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী সদস্যদের দলে টেনেছে তৃণমূল। অভিযোগ মানেনি তৃণমূল।