• পীযূষ নন্দী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রেলপথ হবেই ভাবাদিঘিতে, দাবি মুকুলের

Mukul Roy
পায়ে-হেঁটে: ভাবাদিঘিতে মুকুল রায়। ছবি: মোহন দাস।

তিন মাসের মধ্যে রেলপথের কাজ শেষ হবে গোঘাটের ভাবাদিঘিতে। মঙ্গলবার ভাবাদিঘি সংলগ্ন গির্জাতলায় সভা করে এই দাবিই করলেন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়।

তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের জন্য ভাবাদিঘিতে অবিলম্বে কাজ শুরু এবং শেষ করার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল। এ দিন সকালে স্থানীয় উদয়পুর থেকে ভাবাদিঘি পর্যন্ত প্রায় ১ কিমি  মিছিল করেন মুকুলবাবু। মিছিল শেষে সভা হয়। সভাস্থল থেকে দেড় কিমি এলাকা জুড়ে লাগানো হয়েছিল মাইকের চোঙ।

এ দিন মুকুল রায় বলেন, ‘‘শুধু গোঘাটের মানুষ নন, হুগলি ও বাঁকুড়া জেলার প্রতিটি মানুষ এই রেলপথের জন্য অপেক্ষা করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মু্খ্যমন্ত্রী তাই জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে রেলপথ হবেই। দুটো জেলার মানুষের স্বপ্নকে  চিরদিন আটকে রাখা যায় না।” আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘‘আগামী তিন মাসের মধ্যে যাতে রেলের কাজ শেষ হয় সেই লক্ষ্যে আপনারা রেল এবং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বসুন।”

বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল সংযোগের ক্ষেত্রে গোঘাটের ভাবাদিঘি নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম। ওই দিঘির উত্তর দিকের একাংশ বুজিয়ে রেললাইন পাততে চায় রেল। কিন্তু এলাকার লোকজনের দাবি, দিঘি বুজিয়ে নয়। দিঘির উত্তর দিকের জমি দিয়েই রেললাইন পাতা হোক। এই টানাপড়েনেই থমকে গিয়েছে কাজ। গ্রামবাসীরা আন্দোলনে নেমেছেন। গত ১ এপ্রিল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসার পথে গোঘাটের উল্লাসপুরে বিকাশ ভট্টাচার্য-সহ ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র কয়েকজন তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। সে বার ভাবাদিঘি ঢুকতে না পারলেও দিন কয়েক আগে বিকাশবাবু-সহ ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র দলটি ভাবাদিঘি গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আন্দোলনকারীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সম্প্রতি হুগলিতে বিজেপির একটি সভায় রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, স্থানীয় মানুষের রুটিরুজি নষ্ট করে ভাবাদিঘিতে রেললাইন পাততে দেওয়া যাবে না। 

সেই প্রসঙ্গ তুলে এ দিন মুকুলবাবু বলেন, ‘‘আমি আপনাদের কাছে বলতে এসেছি, কিছু বিভ্রান্তকারী সাময়িকভাবে এই কাজ হয়তো ঠেকিয়ে রাখছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে উঠবে না। পর্দার আড়ালে থেকে সেভ ডেমোক্রেসি-সহ নানান সংগঠন যাঁরা উস্কানি দিচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে সরাসরি আমাদের সঙ্গে বসুন।’’ এ দিন সভায় ছিলেন পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, সাংসদ অপরূপা পোদ্দার, বিধায়ক বেচারাম মান্না প্রমুখ। ভিড় হয়েছিল ভালই। ম্যাটাডর, ছোট গাড়ি করে হুগলি জেলা-সহ আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকেও তৃণমূলকর্মীরা এসেছিলেন। বেচারামবাবু বলেন, ‘‘রেল লাইনের কাজ দেরি হলে এর দশ গুণ লোক আসবে ভাবাদিঘিতে। রেল লাইন হবেই।”

ভাবাদিঘির ‘দিঘি বাঁচাও’ কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায়ের অভিযোগ, “ভাবাদিঘির বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তা সত্বেও তৃণমূলের নেতারা এ দিন হুমকি দিয়ে গেলেন। মিথ্যা ভাষণ দিয়ে কয়েক হাজার হাজার লোককে তাতালেন।  বিষয়টি আমরা আদালতে জানাব।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন