• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভাতা পেলেন গোন্দলপাড়ার কর্মহীনেরা

Subsidy
প্রাপ্তি: সরকারি ভাতার টাকা তুলছেন শ্রমিকেরা। নিজস্ব চিত্র।

অর্থাভাবে তাঁরা দীর্ঘদিন ভুগছেন। অনেকের ছেলেমেয়ের পড়াশোনা বন্ধ গিয়েছে। কেউ টোটো চালাচ্ছেন। কেউ দিনমজুরি করছেন। ইতিমধ্যে দুই শ্রমিক আত্মঘাতী হয়েছেন। অসুখেও মারা গিয়েছেন কেউ কেউ। দেড় বছরেরও বেশি দিন ধরে বন্ধ চন্দননগরের গোন্দলপাড়া জুটমিলের শ্রমিকেরা রাজ্য সরকারের কাছে বারবার তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি ভাতার (ফিনান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স টু দ্য ওয়ার্কার্স অব লকড আউট ইন্ডাস্ট্রিজ বা ফাউলাই) আবেদন জানাচ্ছিলেন। অবশেষে দুর্গাপুজোর মুখে সেই ভাতার একাংশ পেলেন তাঁরা। বুধবার তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে ঢুকেছে।

জুটমিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে দুর্দশা বেড়েই চলেছে সেখানকার ৩৬০০ শ্রমিকের। ফাউলাই-এর পুরো ভাতা না-মেলায় তাঁদের একাংশ ক্ষুব্ধ। ওই জুটমিলের কর্মী, প্রাক্তন ফরওয়ার্ড ব্লক কাউন্সিলর রাজেশ জয়সোয়ারা বলেন, ‘‘আমরা ফাউলাইয়ের টাকা দাবি করেছিলাম। রাজ্য সরকারের উচিত ছিল অনেক আগেই এই টাকা দেওয়া।’’ চন্দননগরের ‘অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্র’-এর কর্ণধার বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার সেই দিল, কিন্তু দেরিতে। ইতিমধ্যে চলে গেল কয়েকটি প্রাণ। দু’জন আত্মহত্যা করেছেন। অসুখে মারা গিয়েছেন কেউ কেউ। আগে টাকাটা পেলে হয়তো মৃত্যু এড়ানো যেত।’’ শ্রমিকদের বকেয়া টাকার প্রসঙ্গে শ্রম দফতরের এক কর্তা জানান, শ্রমিকদের যাবতীয় কগজপত্র খতিয়ে দেখতে সময় লেগেছে এটা ঠিক। বকেয়া টাকাও ধাপে ধাপে মেটানো হবে।   

ওই জুটমিলের শ্রমিক সংগঠনগুলির পাশাপাশি ফাউলাই-এর দাবি তুলেছিল ‘অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্র’ও। মহকুমাশাসকের কাছে শ্রমিকদের নায্য পাওনা নিয়ে মিছিল করে ইতিমধ্যে স্মারকলিপিও দিয়েছে তারা। একই দাবি তারা চন্দননগর শ্রম দফতরেও জানায়। শ্রম দফতরের বিধি অনুযায়ী, কোনও কারখানা ছ’মাসের বেশি বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের ‘ফাউলাই’ প্রকল্পে মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালে, বাম আমলেই প্রকল্পটি চালু হয়। গোন্দলপাড়ার সঙ্গে একই সময়ে বন্ধ হওয়া শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুটমিলের শ্রমিকেরাও কয়েক দিন আগে ওই প্রকল্পে ভাতা পেয়েছেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন