দিন কয়েক আগে পথ হারিয়ে শান্তিপুরে চলে এসেছিলেন এক যুবক। কথা বলতে পারেন না। কানেও ঠিকমতো শোনেন না। 

তাঁর পরিবারের সন্ধান পেতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও যোগাযোগের ফোন নম্বর দিয়ে পোস্ট করেছিলেন স্থানীয়েরা। সেই সূত্র ধরে বাড়ি ফিরে গেলেন ওই যুবক। এক দিন শান্তিপুর থানায় ঠাঁই হয়েছিল ওই যুবকের। শনিবার রাতে থানায় এসে পরিবার ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন তাঁকে।

হাওড়ার বাগনানের খাপাড়ার বাসিন্দা ওই যুবকের নাম সামসুল আলি খান। গত ৪ এপ্রিল শান্তিপুর স্টেশনের কাছে অটোস্ট্যান্ডে তাঁকে অসহায় ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরাই খবর দেন শান্তিপুরের কিছু সমাজকর্মীকে। খবর পেয়ে যান অনুপম সাহা, সুব্রত মৈত্র, বিশ্বজিৎ রায়রা। কিন্তু কথা বলতে না পারায় তাঁর পরিচয় সেই সময়ে মেলেনি। তাঁকে শান্তিপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি কাগজে নিজের ও বাবার নাম লেখেন। তবে ঠিকানা জানাতে পারেননি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটে তাঁর ছবি এবং ঘটনার বিবরণ লিখে পোস্ট করতে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। সঙ্গে ছিল যোগাযোগের নম্বর। শুক্রবার সামসুলের পরিচিতদের কাছে সেই পোস্ট পৌঁছয়। তাঁরা ছবি দেখে যোগাযোগ করেন মোবাইল নম্বরে। এর পরে শনিবার রাতে সামসুলের পরিবারের লোকজন চলে আসেন শান্তিপুর থানায়। সেখান থেকে উপযুক্ত নথিপত্র দেখিয়ে তাঁকে নিয়ে যান।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সামসুলের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা তিন ভাই। সামসুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। আগে শাড়িতে জরি বসানোর কাজ করতেন। বছর খানেক আগে বিয়ে করেছেন তিনি। দিন কয়েক আগে সামসুল তাঁর মামার ছেলেদের সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে আক্রা সন্তোষপুর এলাকায় যান। সেখানে কিছু দিন কাজ করার পরে সে কয়েক দিনের ছুটিতে বাড়ি ফেরেন। ফের গিয়ে কাজে যোগ দেন। এ বারে যাওয়ার পরেই কোনও ভাবে রাস্তায় বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। এই কয়েক দিন বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সন্ধান করেছেন পরিবারের লোকজন। পুলিশকেও জানানো হয়। পরে তাঁরা সোশ্যাল সাইট থেকে জানতে পারেন, সামসুল শান্তিপুরে রয়েছেন। 

এ দিন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছিলেন সামসুলের মা সায়েরা খাতুন, কাকা জাকির হোসেন, স্থানীয় ইমাম মহম্মদ কবিরুদ্দিন-সহ অন্যরা। সামসুলের মা সায়েরা বলেন, “এখানকার মানুষগুলো অপরিচিত হলেও তাঁরা আপন জনের মতো কাজ করেছেন। ওঁদের জন্যই আজ ছেলেকে ফিরে পেলাম। ওঁদের ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই আমার।” কবিরুদ্দিন বলেন, “এই কয়েকদিন অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি আমরা। কোথাও খোঁজ পাইনি। আজ শান্তিপুরের বাসিন্দাদের জন্যই সামসুলকে ফিরে পেলাম।” সামসুলকে বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্বজিৎ, অনুপম, সুব্রতেরা বলেন, ‘‘মানুষটা হারিয়ে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিল। তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে ভাল লাগছে।” পরিবারের লোকজনকে কাছে পেয়ে এ দিন রাতে সামসুলের গাল বেয়ে তখন নামছে আনন্দের অশ্রু।

এর আগেও সোশ্যাল সাইটের সাহায্য নিয়ে এক বৃদ্ধকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল শান্তিপুর।