নেশার টাকা জোগাড় করতে বন্ধুর মাকে মারধর করে লুটের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক যুবক। মঙ্গলবার, মধ্য হাওড়ার রাজবল্লভ সাহা লেন থেকে ধৃত ওই যুবকের নাম কৌশিক ধাড়া ওরফে জয়দাস। আহত মহিলাকে স্থানীয় নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে লুটের খবর পেয়েই হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন। জানা গিয়েছে, শুধু নেশার টাকা জোগাড়ই নয়, অতীতে ওই যুবককে চড় মেরেছিলেন আহত মহিলা। তার প্রতিশোধ নিতে এই ঘটনা। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে একাধিক ব্যক্তির আঙুলের ছাপ। সে সব পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। আহতের ছেলে (জয়দাসের বন্ধু) ঘটনায় জড়িত কি না তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে রাজবল্লভ সাহা লেনের একটি বাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকার সোনার কয়েন-সহ কয়েক হাজার টাকা, একটি ভিডিয়ো ক্যামেরা ও হাতঘড়ি লুট করে দুষ্কৃতীরা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেই সময়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের তিন সদস্যই। অথচ গৃহকর্ত্রী ছাড়া কেউই দুষ্কৃতীদের দেখেননি। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, লুটের ঘটনায় পরিবারের ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। তাঁকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রাজবল্লভ সাহা লেনের ওই বাড়ির গৃহকর্ত্রী মান্তু দাস স্বামী এবং ছেলেকে নিয়ে দোতলায় থাকেন। দাবার প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর স্বামী দিলীপ দাস এলাকায় পরিচিত। বছর বাইশের ছেলে রাহুলদেব দাস একটি অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থায় কাজ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আতঙ্কিত মান্তুদেবী রাত পর্যন্ত তদন্তে কোনও সাহায্য করতে পারেননি। যদিও পুলিশ জেনেছে, কয়েক মাস আগে পর্যন্ত ওই বাড়িতে বসে রাহুল ও জয়দাস দিনের পর দিন নেশা করতেন। ছেলেকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য এক দিন মান্তুদেবী রেগে জয়দাসকে চড় মারেন। অভিযোগ, ওই দিন মান্তুদেবীকে দেখে নেবেন বলে শাসিয়ে যান জয়দাস। 
তদন্তকারীদের রাহুল জানিয়েছেন, তাঁর মাকে মারধর করে বেঁধে এই লুটের ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে তিনি দেড় ঘণ্টা ধরে শৌচাগারে ছিলেন। তাঁর দাবি, তাই তিনি জানেন না কে বা কারা মাকে মেরে টাকা-গয়না লুট করে পালাল, এমনকি বন্ধ সদর দরজা দুষ্কৃতীদের কে খুলে দিল! অন্য দিকে দিলীপবাবুর দাবি, ওই সময়ে তিনি পাশের ঘরে ছিলেন। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারেননি।
বাড়িটির একতলা ভাড়া দেওয়া আছে বাতিল জিনিস বিক্রির একটি দোকানকে। ওই বাড়ির উপর তলায় কাউকে উঠতে গেলে সেই দোকানের পাশ দিয়ে ঢুকতে হয়। দোকানের মালিক আব্দুল কালামের দাবি, তিনি ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানে ছিলেন। অথচ অপরিচিত কাউকে দোতলায় উঠতে দেখেননি তিনি।
তবে জয়দাস যে একা এ কাজ করেননি, সে প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। আজ বুধবার, বিশ্ব মাদক বিরোধী দিবস। তার ঠিক দু’দিন আগে ঘটনাটি ঘটেছে। এলাকায় নেশার টানে ঘটা যাবতীয় অপরাধের তথ্য মাথায় রেখে এগোচ্ছেন তদন্তকারীরাও। তাঁদের দাবি, মান্তুদেবীর শরীরে বাইরে থেকে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। এমনকি তাঁকে দড়ি দিয়ে বাঁধার ছাপও পাওয়া যায়নি। ফলে রাহুলের দেওয়া যাবতীয় তথ্যও যাচাই করছেন তাঁরা।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।