সাড়ে তিন মাসে ১৯টি অস্ত্রোপচারের পরে বাড়ি ফিরলেন পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়া তরুণী। 

১৫ জুন সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ হাওড়া ময়দানের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারায় একটি বাস। সেই বাসেই ছিলেন মেডিক্যাল বায়োটেকনোলজির স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রী দেবলীনা রায়। বছর চব্বিশের দেবলীনা বাসের চাকার নীচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল এসএসকেএম হাসপাতালে।

ওই হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হওয়ার পরেই দ্রুত তাঁর তিনটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বাঁ পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন দেবলীনা। রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তাই অস্থি, ভাস্কুলার, প্লাস্টিক সার্জারি করতে হয়েছে। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পরে হঠাৎ দেবলীনার সেপসিস শক দেখা দেয়। তাঁকে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখতে হয়। চিকিৎসক রজত চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলে। হয় ১৯টি অস্ত্রোপচার। শনিবার তিনি বাড়ি ফিরেছেন।

আরও পড়ুন: সন্তানের ভবিষ্যৎ কী, আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণেই আভাস মিলবে!

দেবলীনার বাবা দেবাশিস রায় ডায়মন্ড হারবারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। তিনি বলেন, ‘‘দুর্ঘটনায় এতটাই জখম হয়েছিল, চিকিৎসকেরা পা বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। তবে সেটা রক্ষা করা গিয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে যদিও এখনও বেশ কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।’’ অন্য চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে সময় লাগবে। তা ছাড়া দেবলীনা শারীরিক ভাবে অনেকটা সুস্থ হলেও দুর্ঘটনার আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে আরও বছর খানেক অপেক্ষা করতে হতে পারে তাঁকে।