জাতীয় সড়কে পুলিশি তল্লাশি চলাকালীন ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক সাইকেল আরোহীর। মঙ্গলবার দুপুরে খড়্গপুর গ্রামীণের চাঙ্গুয়াল এলাকায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওই দুর্ঘটনায় মৃত অরুণ সিংহ (২৫) স্থানীয় একটি ভারী যন্ত্র নির্মাণকারী সংস্থার শ্রমিক ছিলেন। দুর্ঘটনার পরে পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন চাঙ্গুয়ালের উত্তর সিমলা গ্রামের বাড়ি থেকে সাইকেলে জাতীয় সড়কের ধারে কারখানায় কাজে যাচ্ছিলেন অরুণ। মেরামতির কাজ চলায় জাতীয় সড়কের দু’টি লেনের একটি দীর্ঘ দিন ধরেই বন্ধ। এ দিন জাতীয় সড়কের ধার ঘেঁষে সাইকেল চালাচ্ছিলেন ওই যুবক। তখন পুলিশের তল্লাশি এড়িয়ে তড়িঘড়ি যাওয়ার সময় বেলদাগামী একটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা মারে অরুণকে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।  পুলিশ গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে মকরামপুরের কাছে চালক-সহ ট্রাকটিকে আটক করে।

দুপুর একটা নাগাদ দুর্ঘটনার পরেই শুরু হয় অবরোধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তল্লাশির নামে পুলিশ ট্রাক আটকে টাকা তুলছিল। অবরোধকারীরা মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুলিশের এই বেআইনি কারবার বন্ধের দাবিতে সরব হন। বেলা দেড়টা থেকে চলতে থাকা অবরোধে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে আসেন খড়্গপুরের এসডিপিও সন্তোষ মণ্ডল, গ্রামীণ থানার ওসি রাজশেখর পাইন ও বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ চলে। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ ক্ষতিপূরণের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

ভুবনেশ্বর-খড়্গপুর ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও কলকাতা-মুম্বই ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে পুলিশ গানি আটকে টাকা তোলে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খড়্গপুর গ্রামীণ, নারায়ণগড়, বেলদা ও দাঁতন এলাকায় বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও ট্রাক দাঁড় করিয়ে নানা ছুতোয় টাকা দাবি করে পুলিশ। মকরামপুর টোলপ্লাজার কাছে রোজই এই দৃশ্য দেখা যায়। এ দিন তাই ঘটনার পরে চাঙ্গুয়ালের বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অবরোধে সামিল হওয়া স্থানীয় রাজু আলি, বরুণ বেরাদের কথায়, “প্রতিদিন এই জাতীয় সড়কে গাড়ির কাগজ দেখতে চেয়ে ট্রাক, লরি, পিক-আপ ভ্যান থেকে কিছু পুলিশ টাকা আদায় করে। ফলে, ট্রাক চালকদের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে। তার জেরেই তো এ দিনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

ট্রাক আটকে টাকা তোলার অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, জাতীয় সড়কে ছিনতাই ঠেকাতেই তল্লাশি চলছিল। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত বলেন, “স্থানীয় মানুষ যে অভিযোগ তুলেছেন তা লিখিত আকারে আমার কাছে এলে তদন্ত হবে।”