• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়

ফাঁকা মাঠে গোল করল টিএমসিপি

দুই মেদিনীপুরের বেশির ভাগ কলেজের পর এ বার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও কার্যত ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে দাপট দেখাল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)।

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের বেশির ভাগ আসনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে চলেছে টিএমসিপি। বুধবার ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। দিনের শেষে দেখা গেল, নামমাত্র আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে বিরোধীরা। ছাত্র সংসদের আসন সংখ্যা যেখানে ১৪৪টি, সেখানে এসএফআই মনোনয়ন জমা দিয়েছে ১৮টি। ডিএসও ১৩টি। সব মিলিয়ে ছাত্র সংসদে টিএমসিপি-র দাপট অব্যাহত।

বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়েও নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছে। বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দী জানান, সুষ্ঠ ভাবেই মনোনয়নপর্ব হয়েছে। ১৭৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছে।

২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন। শুক্রবার থেকে মনোনয়নপর্ব শুরু হয়। শেষ হয় বুধবার। মঙ্গল এবং বুধবার, এই দু’দিনই মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন ছিল। কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিজেদের দাপট দেখিয়েছে টিএমসিপি। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবমিলিয়ে ২৬টি কলেজের ছাত্র সংসদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে ১৫টি কলেজে আর ভোটাভুটির প্রয়োজন হচ্ছে না। এই সব কলেজের সব আসন বিনা লড়াইয়েই জিতে গিয়েছে টিএমসিপি। ভোট হবে ১১টি কলেজে। এর মধ্যে কিছু কলেজের ছাত্র সংসদও কার্যত টিএমসিপি-র দখলে চলে গিয়েছে। যত আসনে নির্বাচন হচ্ছে, সেই আসনে হারা জেতার উপর সংসদ কার দখলে থাকবে তা নির্ভর করে না।

এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক সৌগত পণ্ডার অভিযোগ, “ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশই নেই। পরপর দু’দিন কর্মী আক্রান্ত হলেন।” ডিএসও-র জেলা সভাপতি দীপক পাত্রেরও দাবি, “কয়েকটি মনোনয়ন ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের নিগ্রহ করা হয়েছে।” ছাত্র পরিষদ, এবিভিপি-র মতো ছাত্র সংগঠন তো আবার একটিও প্রার্থী দেয়নি। কেন? এবিভিপি-র জেলা সভাপতি স্বরূপ মাইতি বলেন, “ক্যাম্পাসের ভিতরে বাইরে জুলুম চালাচ্ছে টিএমসিপি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের ইউনিট রয়েছে। মনোনয়ন জমা দিতে এলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মহম্মদ সইফুল বলেন, “টিএমসিপির সন্ত্রাসের জন্যই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রার্থী দিতে পারিনি। অথচ, যে সব কলেজে (কমার্স, সবং) ছাত্র সংসদ আমাদের দখলে ছিল, সেখানে সুষ্ঠু ভাবেই মনোনয়নপর্ব চলেছে।” বিরোধীদের সব অভিযোগই উড়িয়েছে টিএমসিপি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক স্বদেশ সরকার বলেন, “প্রার্থী না পেয়ে মিথ্যা নালিশ করছে ওরা।”

জেলার বেশির ভাগ কলেজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঝোঁক নতুন নয়। রাজ্যে পালাবদলের আগে এই ঝোঁক ছিল এসএফআইয়ের। পালাবদলের পর সেই ঝোঁকই চেপে বসেছে টিএমসিপির উপর। বেশির ভাগ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে যে ধাক্কা খেতে হতে পারে, সেই আশঙ্কা অবশ্য ছিলই। এই আশঙ্কা জিইয়ে দিয়েছিল গতবারের ফলাফল। গতবার ছাত্র সংসদে ১৪৫টি আসন ছিল। এর মধ্যে ২টি আসনে কোনও সংগঠনেরই প্রার্থী ছিল না। ১২১টি আসনে শুধু টিএমসিপির প্রার্থী ছিল। ভোট হওয়ার কথা ছিল বাকি ২২টি আসনে। তবে এক জন ভোটারও না আসায় ৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়নি।

বাকি ১৮টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ডিএসও পেয়েছিল ৮টি আসন, টিএমসিপি ৮টি এবং নির্দল ৪টি। জয়ী ৪ জন নির্দল প্রার্থীর মধ্যে আবার ৩ জনকে সমর্থন করেছিল এসএফআই। এই পরিস্থিতিতে এ বারও টিএমসিপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনায় উদ্বিগ্ন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব গত সোমবার রাতেই ছাত্র নেতাদের তলব করে বৈঠকে বসেন। ক্যাম্পাসে গোলমালের জন্য ছাত্র নেতাদের ধমকও দেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না।

তা-ও অবশ্য দ্বন্দ্ব একেবারে মেটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে মনোনয়ন জমা পড়েছে ১৭৮টি। এর মধ্যে অন্তত ৩টি আসনে টিএমসিপির দু’জন করে প্রার্থী রয়েছে। কেন এই পরিস্থিতি? সদুত্তর এড়িয়ে স্বদেশ বলেন, “বাড়তি মনোনয়ন প্রত্যাহার হয়ে যাবে!”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন