মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ, মঙ্গলবার দুপুরে হেলিকপ্টারে দিঘায় আসছেন। দিঘায় পোঁছে নিউ দিঘার পুলিশ হলিডে হোমের মাঠে একটি প্রশাসনিক সভা ছাড়াও বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।

এর মধ্যে সৈকত শহর দিঘার প্রবেশ মুখে ৬ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘ওয়েলকাম গেট’ বা স্বাগত তোরণ ছাড়াও দিঘা থেকে মন্দারমণি পর্যন্ত ১১ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মীয়মান উপকূল সড়কের উদ্বোধনও রয়েছে। দিঘার সৈকতাবাসে রাত্রিবাস করে, পর দিন বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর দিঘা থেকে হলদিয়ায় পৌঁছনোর কথা।

মুখ্যমন্ত্রী কপ্টারে আসায় দিঘার কাছেই অলঙ্কারপুরে দিঘা বিদ্যাভবন স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। দিঘা সফরের যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার দিঘায় জেলা প্রশাসনের তরফে বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক অন্তরা আচার্য, অতিরিক্ত জেলাশাসক অজয় পাল, জেলা পুলিশ সুপার সুকেশ জৈন, কাঁথির মহকুমাশাসক সরিৎ ভট্টাচার্য, মহকুমা পুলিশ অফিসার ইন্দ্রিজিৎ বসু, দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের নির্বাহী আধিকারিক সুজন দত্ত-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।

এ দিকে, দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভাকে তৃণমূলের দলীয় সমাবেশ হিসেবে বলে প্রচার করা হচ্ছে বলে সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ। সিপিএমের রামনগর জোনাল কমিটির সম্পাদক আশিস প্রামাণিক অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের জেলা কার্যকরি সভাপতি তথা বিধায়ক অখিল গিরি তৃণমূলের সমাবেশ বলে দলীয় প্রতীক নিয়ে জোর প্রচারে নেমেছেন। দিঘা, রামনগরের বিভিন্ন জায়গায় দলীয় প্রতীক-সহ ফ্লেক্স, হোর্ডিং, পোস্টার ও দলীয় পতাকা দিয়ে মুড়ে দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা নিয়ে দলীয় প্রচার

প্রশাসনিক সভার সঙ্গে দলীয় কর্মসূচিকে অখিলবাবু গুলিয়ে ফেলেছেন, অভিযোগ সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রশান্ত প্রধান, সিপিআইয়ের উত্তম প্রধানেরও। অখিলবাবু অবশ্য জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে সভা করবেন সেই পুলিশ হলিডে হোমের মাঠে কোনও গেট করা হয়নি। অন্যত্র করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দলেরও নেত্রী। তাই তাঁর সভায় যোগ দেওয়ার জন্য আমি দলীয় কর্মী ও বিধায়ক হিসেবে আহ্বান জানিয়ে গেট, হোর্ডিং, পোস্টার করতেই পারি। কে, কী বলল যায়-আসে না!”

—নিজস্ব চিত্র।