ঘরের সমস্যা ঠিকঠাক বুঝতে পারেন ঘরের লোকই। তাই সমস্যা মেটাতে ঘরের লোককেই এগিয়ে আসতে হয়।

সেই অঙ্কে আদিবাসীদের বিভিন্ন কুসংস্কারে দাঁড়ি টানতে আদিবাসী সমাজের সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারাগানা তৎপর হল। এ ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে চাইছে এই সংগঠন। তাঁরা কোন পথে কী ভাবে এগোবেন তা জানাতে আদিবাসী সমাজের মাঝি বাবাদের চিঠি দিয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুরোধও জানানো হচ্ছে।

দু’দিন আগেই ঘাটালের ঈশ্বরপুর গ্রামে ডাইনি অপবাদে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ডাইন ঠাওরে বিশের পুজোআচ্চার আয়োজন করে প্রকাশ্যেই গাছে বেঁধে মারধর করা হয় হাঁসদা নামে ওই বৃদ্ধাকে। মারের চোটে প্রাণ যায় তাঁর। মারধরে জখম হন তাঁর বৌমা ও পড়শি কয়েকজন মহিলাও। ওই ঘটনায় আরও আটজনকে সোমবার গ্রেফতার করে পুলিশ। আগেই ছ’জন গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের মঙ্গলবার ঘাটাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার বিজ্ঞান মঞ্চকে সঙ্গে গ্রামে সচেতনতা প্রচারও চালানো হয়।

জঙ্গলমহলের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরেমাঝেমধ্যেই ডাইন অপবাদে নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে। ধরপাকড় হয়, হয় সচেতনতা শিবিরও। কিন্তু সচেতনতা পুরোপুরি ফেরে না। 

এ বার তাই পুলিশ-প্রশানের পাশাপাশি তৎপর আদিবাসী সংগঠন মাঝি পারাগানা মহলও। সংগঠনের ঘাটাল মহকুমা তল্লাটের সভাপতি মনোরঞ্জন মুর্মু বললেন, “সমাজের কিছু মানুষ নানা দুর্বলতা থেকে এ সব ঘটনা ঘটায়। অজ্ঞতার কারণে সমাজেরই একাংশ এতে প্রশ্রয় দেন। কিন্তু এমনটা আর চলবে না। হাতে স্মার্ট ফোনও থাকবে, আবার ডাইনিতেও বিশ্বাস করব কেন।” মনোরঞ্জন মানছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেই এ ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রচার চালানো হবে। আর তা শুরু হচ্ছে ঘাটাল  দিয়ে।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে আদিবাসী সমাজের সর্বত্র পৌঁছনো যাবে কী করে?

এ ক্ষেত্রে আদিবাসী যুব সমাজকে ব্যবহার করতে চাইছেন সংগঠনের নেতারা। মনোরঞ্জনের কথায়, “এখন আদিবাসী সমাজের অল্পবয়সীদের অনেকের হাতেই রয়েছে স্মার্ট ফোন। আমরা নির্দিষ্ট  কয়েকজনকে চিহ্নিত করে একটি গ্রুপ খুলে কোন ক্ষেত্রে কী করণীয় তা নিয়ে আলোচনা করব। একই ভাবে সমাজের কোথাও কোনও সমস্যা হলে সেটাও গ্রুপে জানানোর আহ্বান করব। তাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।”

এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে সকলেই। ঘাটালের পাথরার কলেজ ছাত্র রামপদ কিস্কুর কথায়, “এখনও সমাজের একটা অংশ কুঃসংস্কারে ডুবে আছে। তা নির্মূল করতে সংগঠনের উদ্যোগটা জরুরি ছিল।” গোপীনাথপুরের তরুণী ঘাটাল কলেজর তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রমা মুর্মুরও মত, “অন্ধ বিশ্বাস কাটাতে সবাইকে ভূমিকা নিতে হবে।”

পুলিশও এই উদ্যোগের প্রশংসা করছে। আশ্বাস দিচ্ছে সব রকম সহযোগিতার। ঘাটালের এসডিপি কল্যাণ সরকার বলেন, “আমরাও ওই গ্রামে দু’-একদিনের মধ্যেই বিজ্ঞান মঞ্চকে নিয়ে সচেতনতা প্রচার করব। ওই আদিবাসী সংগঠনকে নিয়ে যৌথ প্রচারও চালানো হবে। এতে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেই আশা।”