লাঠি দিয়ে মারধর, ইট-পাটকেল ছোড়া থেকে দোলের দিন রং মাখিয়ে দেওয়া— পথকুকুরদের হেনস্থার নানা ছবি এত দিন দেখা গিয়েছে। তালিকায় নয়া সংযোজন এ বার অ্যাসিড হানা! 

পথকুকুরদের উপর অ্যাসিড হামলা শহর মেদিনীপুরে বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি পাটনাবাজারে অ্যাসিড হামলায় মারাত্মক জখম হয়েছে একটি পথকুকুর। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এতদিন সরব হচ্ছিলেন পশুপ্রেমীরা। এ বার তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হলেন তাঁরা। মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এক পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। ওই পশুপ্রেমী সংগঠনের পক্ষে বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, “কুকুরের গায়ে অ্যাসিডের ক্ষত দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’’ 

জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ দিনই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে দলটি। অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘‘বিষয়টি দেখছি। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, এ ক্ষেত্রে অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাসিড হামলা এবং পশু-নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনে মামলা হতে পারে। 

মাস কয়েক আগেও শহরে এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেই বার মির্জাবাজারে পথকুকুরের গায়ে অ্যাসিড ছোড়া হয়েছিল। 

পশুপ্রেমী সংগঠনটির অভিযোগ, মির্জাবাজারে সাত-সাতটি কুকুর অ্যাসিড হানার শিকার হয়েছিল। এর মধ্যে একটি কুকুর মারাও যায়। আরও দু’টি কুকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাদের চিকিৎসা করানো হয়েছে। 

শহর মেদিনীপুরে পথকুকুরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এক সময় কুকুরের নির্বীজকরণ, টিকাকরণের কাজ শুরু হয়েছিল। পরে সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। বিশ্বজিৎ বলেন, “পাটনাবাজারে ওই কুকুরটিকে দেখে কান্না পেয়ে গিয়েছিল। কুকুরটি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। গোটা গায়ে অ্যাসিডের পোড়া দাগ। একটা অবলা প্রাণীর সঙ্গে কেউ এমন করতে পারে!’’ স্থানীয় কাউন্সিলর লিপিকা পাণ্ডবও বলছেন, “এটা খুব জঘন্য মানসিকতা।’’

কুকুরের উপর অ্যাসিড হামলার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়েছিলেন পশুপ্রেমীরা। ধীরে ধীরে দানা বাঁধতে থাকে সেই প্রতিবাদ। এ বার একেবারে পুলিশের দ্বারস্থ হল পশুপ্রেমী এক সংগঠন। বিশ্বজিৎদের আর্জি, “পশুদের রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। ওদেরও প্রাণ রয়েছে, এটা সকলকে বুঝতে হবে।’’