• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুলিশকে সতর্ক করল আদালত

বৃদ্ধ বেকসুর পকসোয়, আর্তি ‘সম্মান ফেরান’

Acquittal in POSCO
প্রতীকী ছবি
‘ফিরিয়ে দিন আমার সম্মান’। তমলুক আদালতের বাইরে সোমবার এই আর্জিই জানাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ। নাবালিকা ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধকে এ দিন বেকসুর খালাসের আদেশ দেন বিচারক। মুক্তির পর তমলুক জেলা আদালতের বাইরে বেরিয়ে বৃদ্ধ বলাই মালের এই আর্তি আদালত চত্বরে থাকা অনেকেরই মনে পড়িয়ে দিচ্ছিল উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘সবার উপরে’ সিনেমার কথা। যেখানে খুনের অপরাধে দীর্ঘদিন জেলে কাটানোর পরে বিচারে বেকসুর খালাস পাওয়া প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায় (ছবি বিশ্বাস) বলছেন, ‘ফিরিয়ে দাও আমার সেই বারোটা বছর’। এ দিন সিনেমার সেই কাহিনির স্মৃতিই যেন ফিরল বৃদ্ধের আর্তিতে।
 
পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নার আনুখা গ্রামের বাসিন্দা বলাই মাল একজন গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী। তিনি থাকেন চণ্ডীপুরে একটি গৌড়ীয় মঠে। বেশ কয়েক বছর আগে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বলাইয়ের সঙ্গে তাঁর দাদা-বৌদির বিবাদ শুরু হয়। ২০১৬ সালে বলাই এই নিয়ে মামলাও করেন তাঁর দাদার বিরুদ্ধে। অভিযোগ মামলায় এঁটে উঠতে না পেরে ২০১৭ সালের ৭ মে বৌদি গৌরী মাল বলাইয়ের বিরুদ্ধে নিজের নাবালিকা নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। পকসো আইনে শুরু হয় মামলা। গ্রেফতার হন বলাই। প্রায় আট মাস জেল খাটার পর কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পান বলাই। এদিন তমলুকের দু’নম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে ছিল সেই মামলার রায়দান।
 
বিচারক লোকেশ পাঠক এদিন অভিযুক্ত বলাই মালকে বেকসুর খালাস বলে রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুলিশকে পকসো আইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন। রায় শোনার পর এ দিন বিচারকের উদ্দেশে হাতজোড় করে প্রণাম করে বলাই বলেন, ‘‘বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা ছিল।’’ পরে আদালতের বাইরে এসে তিনি বলেন, ‘‘এই মামলা লড়তে আমার তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। তবে তার চেয়েও বড় ব্যাপার আমার সম্মান হানি হয়েছে। যাঁরা মামলা করেছিলেন তাঁরা পারবেন আমার সম্মান ফিরিয়ে দিতে?’’
 
অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী রিতম চৌধুরী বলেন, ‘‘বৃদ্ধ বলাই মালকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। এ দিন আদালতে তা প্রমাণিত হল। পুলিশ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণই দিতে পারেনি।’’ সরকার পক্ষের আইনজীবী দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তদন্তে দেখা গিয়েছে এই মামলার পিছনে পারিবারিক শত্রুতা ছিল। নির্যাতিতা নাবালিকার মেডিক্যাল রিপোর্টও অভিযোগের পক্ষে ছিল না। মামলাকারী ও নির্যাতিতা আদালতে বিরূপ হয়ে যায়। তাই অভিযুক্তকে বিচারক বেকসুর খালাস ঘোষণা করেন।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন