মিলল না মাইক ব্যবহারের অনুমতি। বাতিল হল তৃণমূলের পাল্টা সভা।

খড়্গপুর গ্রামীণের মাতকাতপুরে এসে জনসভা করে গিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। বিজেপিকে ‘জবাব’ দিতে আজ, সোমবার সেখানে ‘পাল্টা’ জনসভা করার কথা ছিল তৃণমূলের। সভার প্রস্তুতিও সারা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সভা স্থগিত করা হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। তাই ওই জনসভা স্থগিত করা হয়েছে। 

রবিবার দুপুরে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‘সোমবার মাতকাতপুরে জনসভা হওয়ার কথা ছিল। সভার প্রস্তুতিও সারা হয়েছিল। মাইক ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। তাই সোমবার সভা হবে না।’’ কাল, মঙ্গলবার থেকে মাধ্যমিক শুরু হচ্ছে। প্রশাসনের এক সূত্রের মতে, মাধ্যমিকের আগের দিন মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। সবদিক দেখেই আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার যে মাধ্যমিক শুরু তা তো অজানা ছিল না জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। সব জেনেও কেন সোমবার ‘পাল্টা’ জনসভার ডাক দেওয়া হয়েছিল? জেলা তৃণমূলের এক নেতার যুক্তি, ‘‘আমরা মাঠের চারপাশ ত্রিপল ঘিরে দিতাম। তেমনই পরিকল্পনা ছিল। রবিবার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, কোনও ভাবেই সোমবার মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। শাসক দলে থেকে আমরা তো আইন ভাঙতে পারি না!’’ তৃণমূলের এক সূত্রে খবর, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মাতকাতপুরে তৃণমূলের এই জনসভা হবে। 

গত বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরে এসেছিলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ। ওই দিন খড়্গপুর গ্রামীণের মাতকাতপুরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ সভায়  মুখ্য বক্তা হিসেবে হাজির ছিলেন শিবরাজ। মিনিট পনেরো বক্তৃতা করেছিলেন তিনি। ওই দিন সভার মাঠ ভরেনি। সভায় ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। বিজেপি সূত্রের খবর, মাঠে লোক না- হওয়ায় দিলীপের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন দলের জেলা নেতৃত্ব। কেন মাতকাতপুরের সভায় লোক কম হল তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরেও। দলের এক সূত্রে খবর, এ নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠকও হয়েছে। গত শুক্রবার মেদিনীপুরে দলের জেলা কার্যালয়ে ওই বৈঠকে ছিলেন জেলা পদাধিকারী, মণ্ডল সভাপতিরা। 

লোক না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে কী দলে পর্যালোচনা বৈঠক করতে হয়েছে? সদুত্তর এড়িয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত দাশ বলেন, ‘‘দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কিছু বলব না।’’ তাঁর দাবি, ‘‘সভায় লোক কম হয়নি!’’ 

বিজেপি যখন ব্যস্ত কেন্দ্রীয় নেতার সভায় ভিড় না হওয়ার কারণ খুঁজতে, তখন পাল্টা সভার দিন পাল্টে নিতে বাধ্য হল তৃণমূল।