ফের আয়া-রাজের অভিযোগ উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এ বার এক প্রসূতির পরিজনের কাছ থেকে আয়ারা ১ হাজার টাকা বকশিস চেয়েছে বলে অভিযোগ। ওই প্রসূতির পরিজনের দাবি, বকশিস না দিলে রোগীর ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়েছে তাঁকে। এই অভিযোগ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য কিছু বলতে চাননি।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আয়ার অবশ্য দাবি, ‘‘পরিজনেরা খুশি হয়ে যা দেন তাই নেওয়া হয়। বেশি টাকা চাওয়া হয় না।’’
 
হাসপাতালের এক সূত্রে খবর, কিসমতারা বিবি নামে এক প্রসূতি সোমবার পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ, এরপরেই বকশিস দাবি করেন কয়েকজন আয়া। ওই প্রসূতির দাদা কাশেম আলির অভিযোগ, ‘‘প্রথমে আমার কাছে ১ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমি বলেছিলাম, আমরা গরিব। তাই এত টাকা দিতে পারব না। পরে বলা হয়, ৫০০ টাকা দিতেই হবে। আমি ২০০ টাকা দিলে বলা হয়, ৫০০ টাকাই চাই। আমি যে ২০০ টাকা দিয়েছিলাম, সেটা আমার দিকে ছুড়েও দেওয়া হয়।’’ কাশেমের বাড়ি কেশপুরের আনন্দপুরের গড়সোনাপোতার আকুলসারায়। তখন সুপারের দফতর খোলা ছিল না। পরিস্থিতি দেখে তিনি হাসপাতালের পুলিশি সহায়তা কেন্দ্রে অভিযোগ করেন। পুলিশের মাধ্যমে অভিযোগের কথা পৌঁছয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।
 
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে আয়া-রাজের নালিশ নতুন নয়। যদিও সরকারি নিয়মে আয়াদের থাকার কথাই নয় হাসপাতালে। কিন্তু বাস্তবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একাংশ রোগীকে দেখভাল করেন তাঁরাই।
 
রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, আয়াদের উপস্থিতির ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব জানেন। কিন্তু ডাক্তার থেকে নার্স—সকলেই না জানার ভান করে থাকেন। এক প্রসূতির পরিজনের কথায়, ‘‘হাসপাতালে এসে সারাক্ষণ খেয়াল রাখার মতো মহিলা আমাদের বাড়িতে নেই। বাধ্য হয়েই একজন আয়া ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমার রোগীকে ছাড়াও সে আরও তিন রোগীকে দেখছেন।’’ হাসপাতালের এক সূত্রে খবর, কখনও একজন আয়া চার-পাঁচজন রোগীর দায়িত্ব নিয়ে নেন। তার পরেও রোগী না দেখে ঘুমোনোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
 
এ নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি খুব ব্যস্ত আছি। কিছু জানার থাকলে সুপারের কাছ থেকে জেনে নিন।’’ হাসপাতালের সুপার তন্ময়কান্তি পাঁজাও জানান, তিনি খুব ব্যস্ত আছেন। এই বিষয়ে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলতে। হাসপাতালের আরেক এক আধিকারিকের অবশ্য আশ্বাস, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখে এ বার উপযুক্ত ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।’’ সব ঘটনা দেখে কিসমতারার এক পরিজনের দাবি, ‘‘হাসপাতাল কী ব্যবস্থা নেয় দেখি। না নিলে সরাসরি  দিদিকে বলব।’’