Anisur Rahman refuses to accept the complaint against him - Anandabazar
  • নিজস্ব সংবাদদাতা

জেরার মুখে অভিযোগ মানতে নারাজ আনিসুর

Anisur Rahman
বিজেপি নেতা আনিসুর রহমান।

Advertisement

 গত চার মাস ধরে তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দিয়েছেন আনিসুর রহমান— ধর্ষণের পাশাপাশি পাঁশকুড়ার দলত্যাগী নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগই এনেছেন নিগৃহীতা যুবতী।

রবিবার রাতে মেদিনীপুর শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আনিসুরকে। আপাতত তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন। সোমবার মেদিনীপুর আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযোগকারী যুবতীও। তাঁর শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে যুবতীর স্বীকারোক্তি, আনিসুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে সেই সম্পর্কে দাঁড়ি টানেন তিনি। এরপরই আনিসুর হুমকি দিতে শুরু করেন। যুবতীর অভিযোগ, সম্পর্ক থাকাকালীনই একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে ভয় দেখিয়ে। শারীরিক সম্পর্কে কখনওই তিনি রাজি ছিলেন না। পরে তাঁকে ব্ল্যাকমেলও করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, “যুবতী জানিয়েছেন, এক সময় তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পর্ক ছিল। তবে পরে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই অভিযুক্ত তাঁকে হুমকি দিতে শুরু করে। তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

আনিসুর এখন পুলিশ হেফাজতে। মঙ্গলবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। আনিসুর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে। আনিসুর দাবি করেছেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আনিসুর-ঘনিষ্ঠদের দাবি, গত রবিবার আনিসুর নিজের থেকে মেদিনীপুরে আসেননি। ওই যুবতীর এক নিকটাত্মীয় তাঁকে ডেকেছিলেন। জানিয়েছিলেন, যুবতীর শারীরিক অবস্থা খারাপ। তাই তাঁর দ্রুত মেদিনীপুরে আসা জরুরি।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা আনিসুর গ্রেফতারের পরেই গেরুয়া শিবির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। আনিসুর-ঘনিষ্ঠদেরও মত, আগে থেকে পরিকল্পনা করে একটা ফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল। সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন আনিসুর। আনিসুরের আইনজীবী সৌরভ মিত্রও বলেন, “ওই দিন আনিসুর নিজে থেকে মেদিনীপুরে আসেননি। তাঁকে মেদিনীপুরে ডাকা হয়েছিল।’’ সৌরভের দাবি, “মামলাটা সাজানো।’’ এতদিন পরে কেন যুবতী ধর্ষণ, হুমকির অভিযোগ করলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

গত রবিবার রাতে মেদিনীপুরে গ্রেফতার হন পাঁশকুড়ার আনিসুর রহমান। মেদিনীপুর শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে আনিসুরের পূর্ব পরিচিত ওই যুবতী ভর্তি ছিলেন। তিনি শনিবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশের কাছে যুবতীর দাবি, তিনি যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, কোনও ভাবে তা জানতে পেরে গিয়েছিলেন আনিসুর। আর তার পরই সোজা হাসপাতালে চলে আসেন। হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এক তদন্তকারীর কথায়, “বছর চব্বিশের ওই যুবতী ধর্ষণ ছাড়াও নানা অভিযোগ করেছেন। তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ 

Advertisement

আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন