• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পাহাড়েই ভূমিশয্যা পাহাড়প্রেমী অরুণের

Arun Das
অরুণ দাস। —নিজস্ব চিত্র

পাহাড় ছিল তার ভালবাসার জায়গা। সেই পাহাড়েই ট্রেকিং করতে গিয়ে মৃত্যু হযেছে কাঁথির অরুণ দাসের। ভূপতিনগরের উত্তর বরোজ গ্রামের বাসিন্দা ওই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কফিনবন্দি দেহ মঙ্গলবার বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। বছর ছত্রিশের অরুণবাবু পূর্ব রেলের সিনিয়ার সেকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে লিলুয়া ওয়ার্কশপে কর্মরত ছিলেন। কাজের সূত্রেই তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে লিলুয়ার আবাসনে থাকতেন।

ছোট থেকেই পাহাড়ে চড়ার নেশা অরুণবাবুর। চাকরি পাওয়ার পর সেই নেশা আরও চেপে বসে। আগে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন পাহাড়ে ট্রেকিং করেছেন। পরিবার সূত্রের খবর, গত ২ জুন ৯ জন অভিযাত্রীর সঙ্গে উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আবহাওয়া ভাল থাকায় অভিযান ভালই এগোচ্ছিল। গত ১০ জুন পরিস্থিতি বদলে যায়। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগের পানপাতিয়ায় ক্যাম্প করেছিলেন তাঁরা। সেখানে পৌঁছনোর পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় অরুণবাবুর। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে সঙ্গী অভিযাত্রীদের দাবি। মধ্যমহেশ্বরে ফিরে পুলিশকে অরুণবাবুর মৃত্যু সংবাদ দেন তাঁর দুই সঙ্গী। গত ১৩ জুন উদ্ধারকাজে নামে রুদ্রপ্রয়াগ জেলা প্রশাসন। ১৬ জনের উদ্ধারকারী দল অরুণের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বরোজ গ্রামে বাবা দিলীপ দাস ও মা পূরবী দাস ভেঙে পড়েন। লিলুয়ায় ছেলের কর্মস্থলে বার বার ফোন করে দিলীপবাবু জানতে চান, দেহ উদ্ধার হয়েছে কিনা। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ অরুণবাবুর কফিনবন্দি দেহ গ্রামে পৌঁছয়। বরোজ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিহির কুমার ভৌমিক বলেন, ‘‘বরাবরই মেধাবী ছাত্র ছিল অরুণ। কায়েমগেরিয়া স্কুলে পড়ার সময় থেকেই পাহাড়ের প্রতি প্রবল টান ছিল তার। পর্বতারোহণে ঝুঁকি আছে বলে বাড়ির লোকেরা বাধা দিত। কিন্তু অরুণ তা মানত না। পাহাড়ের প্রতি অদম্য টানে পাহাড়ের কোলেই শেষ নিঃশ্বাস নিল সে।’’

গ্রামের কৃতী ছাত্রকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এদিন গোটা গ্রামই ভেঙে পড়েছিল পর্বতারোহীর বাড়িতে। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন