একটি ছবি আর একটি পোস্ট। সেটাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকে সরগরম রাজনৈতিকমহল।

কলকাতায় এনআরএস হাসপাতালে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে আগেই ‘পাশে’ দাঁড়িয়েছিল শাসক দলের হেভিওয়েট দুই পরিবারের সদস্য। এ বার চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে এবং চিকিৎসকদের আন্দোলনকে বৈধ বলে দাবি করলেন খোদ শাসক দলের জনপ্রতিনিধি।

শুক্রবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম দাস। পেশায় চিকিৎসক পার্থবাবু নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে এক টাকা সাম্মানিক বেতনে রোগী দেখেন। গত কয়েক দিন ধরে চিকিৎসকদের মারধরের পর রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। তার পরিপ্রেক্ষিতে এনআরএস হাসপাতালে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে একটি পোস্টে পার্থবাবু লিখেছেন, ‘ওরা বলছে, জান- প্রাণ লড়িয়ে মানুষের সেবা করে যাব। কিন্তু ব্যর্থ হলে জান- প্রাণ কেড়ে নিতে চাইলে, আমাদের রক্ষা করুন। শুধু নিরাপত্তার দাবি’। একইসঙ্গে গত কয়েক দিন ধরে চিকিৎসকদের ধর্মঘটের জেরে রাজ্য জুড়ে সরকারি হাসপাতালে যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধক্ষ্য পার্থবাবু আরও লিখেছেন, অবাস্তব দাবি তো ওরা করেনি! মেনে নিতে অসুবিধা কোথায়? তিনি আরও লিখেছেন, আইন মেনে দোষীদের শাস্তি দিতে অসুবিধা কোথায়!

বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবাদ মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো আবেশ বন্দোপাধ্যায়ের হাঁটার ছবি দেখা গিয়েছে। তারপর জুনিয়ার চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মেয়ে সাব্বাও। এ বার সেই তালিকায় কয়েক ধাপ এগিয়ে চিকিৎসক নিগ্রহ কান্ডে সরাসরি দোষীদের শাস্তির দাবি তুলে পার্থবাবুর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে তৃণমূল নেতা তথা স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম দাসের দাবি, ‘‘জুনিয়র ডাক্তাররা কেবলমাত্র নিরাপত্তার দাবি করেছিল। তা ছাড়া তারা যে দাবি করেছিল তা মেনে নেওয়া যেত বলেই মনে করি। তাই এমন পোস্ট করেছি।’’

শুক্রবার দুপুরে হলদিয়ার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ঘাসিপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং নার্সেরা। পরে কর্মবিরতি উঠে গেলে স্বাভাবিক ভাবে রোগী দেখেন চিকিৎসকেরা।

এ দিন তমলুক জেলা হাসপাতাল,  পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি, এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি, হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল ও কাঁথি হাসপাতালে পরিষেবা  স্বাভাবিক ছিল বলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়।