শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর আগে কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর। হলদিয়া বন্দরে গেরুয়া শ্রমিক সংগঠন বিএমএস সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল ২০১৪ থেকেই। সে বছরে হলদিয়া বন্দরের ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে একটি আসন ছিনিয়ে নেয় বিএমএস। তারপর থেকে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে বিএমএসের শক্তি ক্রমশ বেড়েছে। সংগঠনের দাবি, তাদের প্রতি শ্রমিকদের সমর্থন যে বেড়েছে তার প্রমাণ, চলতি বছরে বন্দরের ডক ইনস্টিটিউটের নির্বাচন। সেখানেও একটি আসনে জেতে বিএমএস। এছাড়াও কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের রিক্রিয়েশন ক্লাবের নির্বাচনে তিনটি আসনে জয়ী হয় বিএমএস। এ সবই জেলায় তাদের শক্তি বৃদ্ধির প্রমাণ বলে দাবি বিএসএসের।
 
সম্প্রতি দিঘায় হোটেল কর্মী ও হকারদের নিয়ে সম্মেলন করে বিএমএস। এ ছাড়া শঙ্করপুরে মৎস্যজীবী, মৎস্য পরিবহণ কর্মীদের নিয়ে সংগঠন তৈরি হয়েছে। কোলাঘাট, পাঁশকুড়া ও ভগবানপুর-১ ব্লকে বিড়িশ্রমিক ও গাড়ি চালকদের নিয়েও শ্রমিক সংগঠন করেছে বিএমএস। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের শক্তঘাটি পূর্ব মেদিনীপুরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে বিজেপি এখনও সে ভাবে দাগ কাটতে পারেনি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি কিছু আসন পেলেও প্রায় সমস্ত পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ তৃণমূলের দখলে। জেলার ৫টি পুরসভাও শাসক দলের হাতে। জেলায় নিচুতলায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি যে দুর্বল তার প্রমাণ মিলেছে লোরসভা ভোটের ফলে। লোকসভায় রাজ্যে বিজেপির আসন এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়লেও পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের গড়ে তারা ধাক্কা দিতে পারেনি।
 
এই অবস্থায় জেলায় শ্রমিক সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি কার্যত বিজেপি শিবিরকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে বলে মত দলের জেলা নেতৃত্বের। বিএমএস নেতৃত্বও মানছেন, রাজ্যে এ বার বিজেপি ভাল ফল করায় জেলায় শ্রমিক সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছে।
বিএমএসের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদীপ বিজলি বলেন, ‘‘২০১৪ সালে হলদিয়া বন্দরে আমরা সদস্য সংগ্রহ শুরু করেছিলাম। তারপর বন্দর ছাড়াও এক্সাইড, টাটা স্টিল এবং আইওসি-সহ অনেক কারখানায় সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ হয়েছে। এ বার লোকসভা ভোটের পর সংগঠনের শক্তি অনেক বেড়েছে। যার ফলে আমরা গত জুন মাসে হলদিয়ায় শ্রমিক সম্মেলন করতে পেরেছি।’’
 
শিল্পশহরে সংগঠনের শক্তি বাড়ার পাশাপাশি শঙ্করপুর মৎস্যবন্দরের ৪টি জেটির মধ্যে তিনটি বিএমএসের শ্রমিক সংগঠনের  নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যার কারণ হিসাবে গেরুয়া শিবিরের দাবি, বাম ও তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন ছেড়ে অনেকে তাঁদের সংগঠনে যোগ দেওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে।
 
বিএমএসের জেলা সম্পাদক অভিষেক মাল বলেন, ‘‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের জেরে তৃণমূল-সহ অন্য শ্রমিক সংগঠন ছেড়ে আমাদের সংগঠনে অনেকে যুক্ত হচ্ছেন। গত বছর এ সময়ে জেলায় বিএমএসের সদস্য ছিল ৫০০ জন। এখন তা বেড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজারে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের বাধা সত্ত্বেও আমরা এগোচ্ছি।’’
 
জেলায় বিএমএসের শক্তিবৃদ্ধির দাবি মানতে নারাজ তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির জেলা কার্যকরী সভাপতি শিবনাথ সরকার। তাঁর দাবি, ‘‘হলদিয়া শিল্পাঞ্চল-সহ জেলায় শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আমাদের সংগঠনই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। বেশিরভাগ শ্রমিক-কর্মচারী আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সংগঠন ছেড়ে কোনও শ্রমিক যাননি। তবে বামপন্থী শ্রমিকদের একাংশ বিএমএসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।’’
 
বিজেপির তমলুক জেলা সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘‘সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন নেই। তবে আরএসএস প্রভাবিত বিএমএসের সংগঠন বৃদ্ধিকে আমরা সমর্থন করে থাকি। হলদিয়া শিল্পাঞ্চল-সহ জেলায় বিএমএসের শক্তি বৃদ্ধিতে আমরা খুশি।’’