এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে কয়েকদিন আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল পাঁশকুড়ার বিজেপি নেতা আনিসুর রহমানকে। সেই মামলায় বর্তমানে জেল হেফাজতে আছেন তিনি। যা নিয়ে বিজেপি-তৃণমূলের রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। তার মধ্যেই এ বার পাঁশকুড়ার মাইশোরা পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান কুরবান শাহকে মারধরের অভিযোগে মঙ্গলবার তাঁকে তমলুক আদালতে তোলা হয়। সেখানে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।

অভিযোগ, ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর মাইশোরা পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান কুরবান শাহকে পাঁশকুড়া বিডিও অফিসের সামনে মারধর করেছিলেন তৎকালীন পাঁশকুড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর তথা জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি আনিসুর। কুরবান পাঁশকুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পাঁশকুড়া থানার পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।

পরে কুরবান তমলুকের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সমস্ত বিষয় জানিয়ে আনিসুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে  পাঁশকুড়া থানার পুলিশ আনিসুরের বিরুদ্ধে মারধর, সরকারি কাজে বাধা দান ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে। সেই মামলাতেই এ দিন আনিসুরকে আদালতে তোলা হয়। তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। বিচারক তাঁকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

এদিন আদালতে তোলার পথে আনিসুর অবশ্য বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্ত হচ্ছে। সব অভিযোগ মিথ্যা।’’ যদিও  কুরবানের  দাবি, ‘‘বিডিও অফিসের সামনে আমাকে মারধর করার ঘটনায় আনিসুরের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। পুলিশ আইন মেনে ব্যবস্থা নিয়েছে।’’

উল্লেখ্য, গত বছর পাঁশকুড়া পুরনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জেতার পর পুরপ্রধান পদের দাবি নিয়ে তৃণমূল নেতা নন্দকুমার মিশ্রের সঙ্গে বিরোধ বাধে আনিসুরের। শেষ পর্যন্ত নন্দকুমারবাবুকে হারিয়ে পুরপ্রধান হন আনিসুর। এরপর তাঁকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেন তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব। পুরপ্রধানের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আনিসুর। সম্প্রতি সবং বিধানসভার উপ-নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।