গত লোকসভা ভোটে গোটা রাজ্যেই উত্থান হয়েছে বিজেপির। ঝুলিতে এসেছে ১৮টি আসন। তবে ভোট বাড়লেও নন্দীগ্রামের জেলায় সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি গেরুয়া শিবির। পরিসংখ্যান বলছে ভোটের পরেও পূর্ব মেদিনীপুরে চাঙ্গা হয়নি দলের সংগঠন। সদস্য সংগ্রহ অভিযানেও তেমন গতি নেই।

‘অধিকারী গড়’ এই জেলায় বিজেপি-র সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে গত জুলাইয়ে। জেলায় দলের দুটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি আছে,  তমলুক ও কাঁথি লোকসভা ভোটের পরেই দু’টি সাংগঠনিক জেলাতেই সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে। তমলুকে সভাপতি হয়েছেন নবারুণ নায়ক আর কাঁথিতে অনুপ চক্রবর্তী। সেই নবারুণের ফেসবুক পোস্টেই স্পষ্ট সদস্য সংগ্রহ অভিযান এখনও আশানুরূপ নয়।

সদস্য সংগ্রহে অনলাইন ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে অন্য জেলার থেকে পিছিয়ে থাকার কথা পরিসংখ্যান দিয়ে দিয়ে নবারুণ লিখেছেন, ‘আমরা এগোচ্ছি, কিন্তু শম্বুকগতিতে। পাশের জেলা এক নম্বরে। আমাদের চোখ কবে খুলবে। না, আমরা কয়েকজন শুধু চেঁচিয়ে যাব। জেলাকে কি এক নম্বরে দেখতে চান না।’

বিজেপি-র দলীয় সূত্রে খবর, সদস্য সংগ্রহ অভিযানে তমলুক সাংগঠনিক জেলা লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ লক্ষ। নবারুণ তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, তমলুক জেলায় ৫৫,৩৩৬ জন সদস্যের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। প্রথম দশে নবম স্থানে রয়েছে তমলুক সাংগঠনিক জেলা। সেখানে প্রথম স্থানে থাকা মেদিনীপুরে এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯৮০ জন সদস্য অনলাইনে ফর্ম পূরণ করেছেন। 

খোদ বিজেপি-র সাংগঠনিক জেলা সভাপতির এমন পোস্টে দলের অন্দরে আলোড়ন পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক জেলা কমিটির সদস্যের বক্তব্য, ‘‘এ ভাবে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে সমাজ মাধ্যমে মন্তব্য দলের কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। দলের বৈঠকে আলোচনা করেই সতর্ক করা যেত।’’ নবারুণের অবশ্য বলছেন, ‘‘কাজ কিছুটা ধীরগতি হওয়ায় দলীয় কর্মীদের দ্রুত কাজ করতে বলা হয়েছে। এতে বিরূপ প্রভাব পড়ার কিছু নেই।’’ 

বিজেপি-কে নিয়ে অবশ্য ভাবতে রাজি নন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা সাংসদ শিশির অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘জেলায় আমাদের সংগঠন আরও মজবুত হয়েছে। পুরনো কর্মীরা অনেকে ফিরে এসেছেন। বিরোধীরা এখানে গুরুত্ব দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।’’