রেশন ও গ্যাসের ডিলারশিপ, দলের অঞ্চল, মণ্ডল সভাপতি পদ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে পোস্টার পড়েছিল বিজেপির সদ্য নিযুক্ত তমলুক জেলা সভাপতি নবারুণ নায়েকের বিরুদ্ধে। বুধবার মেচেদা বাজারে সেই পোস্টারকে ঘিরে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। পোস্টারে বিজেপি সভ্যবৃন্দের নাম উল্লেখ করে নবারুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে চাপানউতোর শুরু হয়ে যায় বিজেপি এবং তৃণমূল নেতাদের মধ্যে।

তমলুক জেলা সভাপতি দাবি করেছিলেন, বিজেপির কেউ নয়, তৃণমূলের লোকজনই তাঁর বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে পোস্টার দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের প্রমাণে সময়সীমা বেঁধে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। তবে শুধু মৌখিকভাবে   চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েই থেমে থাকলেন না তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য বৃহস্পতিবার পাল্টা পোস্টার দিয়েছেন মেচেদা বাজারে।

এ দিন সকালে মেচেদা বাজারে নবারুণ নায়েক নাম দেওয়া ওই পোস্টারে তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে। নবারুণের তরফে পাল্টা পোস্টার দেওয়ার ঘটনায় এদিন মেচেদা বাজারে চাঞ্চল্য ছড়ায়।  তবে এই নিয়েও ফের বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে  চাপান উতোর শুরু হয়েছে। নবারুণের দাবি, ‘‘বুধবার আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে পোস্টার দেওয়ার পরে আমি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলাম ১৮ জুলাই তমলুকে বিজেপির জেলা অফিসে আমি থাকব। আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে সেখানে জানাতে আসুন। সেই অনুযায়ী এদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমি জেলা অফিসে ছিলান। কিন্তু একজনও সেখানে আসেনি।’’

পাল্টা পোস্টার দেওয়ার কারণ সম্পর্কে তমলুক জেলা সভাপতি বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে যে কুৎসা করা হয়েছে, তার জবাব দিতেই ওই পোস্টার দেওয়া হয়েছে।’’

যদিও বিজেপির তমলুক জেলা সভাপতির এমন পোস্টার দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক আহ্বায়ক শরৎ মেট্যা বলেন, ‘’বিজেপি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে তাঁর দলের লোকেরাই পোস্টার দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন। তাই নিজের হয়ে সাফাই দিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পোস্টার দেওয়ার ঘটনা হাস্যকর। বিজেপি জেলা সভাপতির এমন কাণ্ড দেখে জেলার মানুষ সব বুঝে গিয়েছেন।’’