এ বার ভোট দেবেন  হোমের মেয়েরাও। 

জাতীয় ভোটার দিবসকে সামনে রেখে শুক্রবার মেদিনীপুরে এক কর্মসূচি হয়। সেখানে নতুন ভোটারদের হাতে ভোটার কার্ড তুলে দেওয়া হয়। ওই মঞ্চেই জেলাশাসক পি মোহনগাঁধীর উপস্থিতিতে  মেদিনীপুরের সরকারি বালিকা হোমের মেয়েদের হাতে ভোটার কার্ড তুলে দেওয়া হয়। জেলাশাসক বলেন, ‘‘হোমের মেয়েদের নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে। এ দিন তাদের হাতে ভোটার কার্ডও তুলে দেওয়া হয়েছে।’’ 

প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, মেদিনীপুরের ওই সরকারি হোমের ২৬ জন মেয়ের নাম এ বার ভোটার তালিকায় উঠেছে। মেদিনীপুরের রাঙামাটিতে অবস্থিত এই সরকারি বালিকা হোমে মূলত অনাথ মেয়েরা থাকে। ওই হোমেরা মেয়েরা আগে ভোট দিতে পারতেন না। কারণ, তাদের তাদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। এ বার জেলাশাসকের নির্দেশে হোমের মেয়েদের নামও ভোটার তালিকায় তোলার তোড়জোড় শুরু হয়। হোমের আবাসিকদের মধ্যে কারা ভোটার হওয়ার উপযুক্ত সেটা দেখা হয়। ভোটার হতে চেয়ে মেয়েদের আবেদন জমা পড়ে। হোমে যান মেদিনীপুরের (সদর) মহকুমাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন জেলার ওসি (ইলেকশন) দীপ ভাদুড়ি। তাঁরা আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। শুনানি হয়। 

শুক্রবার যারা ভোটার কার্ড পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন নিরূপমা মাহালি, দোমনি হেমরম, ভাগ্যবতী সরেন, ফুলমণি মুর্মু। নিরুপমার কথায়, ‘‘ভোট দিতে পারব, এটা ভেবেই অন্য রকম একটা অনুভূতি হচ্ছে।’’ জাতীয় ভোটার দিবসকে সামনে রেখে শুক্রবার  সকালে মেদিনীপুরে এক শোভাযাত্রা হয়। সেখানে পা মেলান জেলাশাসক। পরে কালেক্টরেটের এক সভাঘরেও নানা কর্মসূচি হয়। যে সব আধিকারিক 

ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ যাঁরা ভাল ভাবে করেছেন, তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়। ভোটার দিবসকে সামনে রেখে যে সব প্রতিযোগিতা হয়েছিল, সেখানে সফলদেরও পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই প্রত্যেক ভোটে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার, কোনও প্রলোভনে প্রভাবিত না হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার শপথ নেন। এ দিনই  কালেক্টরেটের সভাঘরে সর্বদলীয় বৈঠকও হয়।

এ দিন ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়েও জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হল। শুক্রবার সকালে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ভোটারদের নিয়ে পদযাত্রা বের করা হয়েছিল। ছিলেন দুই অতিরিক্ত জেলাশাসক টি বালাসুব্রহ্মণ্যম ও কৌশিককুমার পাল। 

পরে জেলাশাসকের সভাঘরে নতুন ভোটারদের হাতে ভোটার কার্ড তুলে দেন জেলাশাসক আয়েষা রানি। ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি বিধানসভার পাঁচজন বুথ লেভেল অফিসারকে (বিএলও) বেস্ট বিএলও অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তাঁদের শংসাপত্র ও স্মারক দিয়ে সম্মানিত করেন জেলাশাসক। জেলার ৮টি ব্লকেও সরকারি ভাবে দিনটি পালন করা হয়।