স্বাধীনতা দিনই এক্সপ্রেস ট্রেনের শৌচালয়ের সামনে মালিকানাহীন ব্যাগ। ট্রেন খড়্গপুরে পৌঁছতেই এল সিআইডির বম্ব স্কোয়াড। ব্যাগ নিয়ে যাওয়া হল সাউথ সাইড এলাকায় মিক্সড হাইস্কুলের মাঠে। শুরু হল পরীক্ষানিরীক্ষা। 

কিছুক্ষণ পরই বোঝা গেল, ওই ব্যাগে বোমা নয়। রয়েছে শাড়ি। তা দেখে কারও মুখে স্বস্তির হাসি। আবার হঠাৎ জড়ো হওয়া ভিড় থেকে ভেসে এল টিপ্পনী, ‘‘যাহ! বোমা পাওয়া গেল না।’’

রেল পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার হাওড়া ছাড়ার পর হাওড়া-মুম্বই গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসের ‘এ-১’ বাতানুকুল কামরার শৌচাগারের সামনে একটি ব্যাগ লক্ষ্য করেন যাত্রীরা। বিষয়টি নজরে পড়ে রেলের টিকিট পরীক্ষক ও অন বোট হাউজ কিপিং কর্মীদের। তাঁরা ঘটনাটি রেল সুরক্ষা বাহিনীকে জানালে খবর যায় রেল পুলিশে। ঝুঁকি নেয়নি রেল পুলিশ। দ্রুত স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছয় তারা। ট্রেন জুড়ে চালানো হয় তল্লাশি। এর পরে একটি বিশেষ যানে রেল লাইন বরাবর ওই ব্যাগটিকে সতর্কতার সঙ্গে স্টেশনের বাইরে নিয়ে আসা হয়। ঘিরে দেওয়া হয় সাউথ সাইডের রাস্তাও। 

রাস্তা ঘিরে দেওয়ার পরই ছড়িয়ে পড়ে খবর। ভিড় জমতে থাকে সাউথ সাইড এলাকায় মিক্সড হাইস্কুলের মাঠে।  শহরের বাসিন্দা শিক্ষক গৌতম রায়, মনীশ চক্রবর্তীরা বলেন, “আমরা তো প্রথমে শুনেছিলাম বোমা রয়েছে ব্যাগে। এভাবে স্বাধীনতা দিবসের দিনে বোমা উদ্ধার নিয়ে সত্যিই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। পরে জানলাম জামাকাপড় ভর্তি ব্যাগ। কিন্তু কীভাবে ওই ব্যাগ এল তা খতিয়ে দেখা হোক।” এ দিন বিষয়টি নিয়ে রেল পুলিশের ডেপুটি সুপার শেখর রায় বলেন, “স্বাধীনতা দিবস থাকায় আমরা সতর্ক ছিলাম। ওই ব্যাগটি সন্দেহজনকভাবে শৌচাগারের সামনে পড়ে থাকায় আমরা কোনও ঝুঁকি নিইনি। ব্যাগটি উদ্ধার করে স্টেশনের বাইরে এনে সিআইডি-র বম্ব স্কোয়ার্কে ডেকে ব্যাগ পরীক্ষা হয়েছে। তবে বোমা নয়, শাড়ি ছিল। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি।”