শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালনে পতাকা লাগানো নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকায়।  মারধর, বোমাবাজি, গাড়ি ভাঙচুর—চলল সবই। মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরায় বোমার ঘায়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীও জখম হয়েছে।   

শনিবার সকাল তৃণমূল- বিজেপি সংঘর্ষ হয় মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরার খাঙারডিহিতে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজন এলাকায় বোমাবাজি করেছে। তাতে এক স্কুল ছাত্রী-সহ চার জন আহত হয়েছেন। পুলিশের অবশ্য দাবি, এলাকা থেকে বোমা মেলেনি।

বিজেপির অভিযোগ, এ দিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস পালন উপলক্ষে গ্রামে দলীয় পতাকা তোলার সময়ে হামলা চালায় তৃণমূল। স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের পাশেই এই ঘটনা ঘটে। বোমা ফেটে জখম হয় মিতালি মণ্ডল নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। মিতালি তখন স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়েছিল। জখম হয়েছেন মতিলাল দোলুই, বাদল কারফা, রমলা কারফা নামে তিন বিজেপি কর্মীও। সবাইকেই মেদিনীপুর মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিজেপির জেলা সম্পাদক অরূপ দাসের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের লোকেরা প্রচুর বোমাবাজি করেছে।’’ অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় বিধায়ক দীনেন রায় বলেন, ‘‘বিজেপি গ্রাম দখলের লড়াইয়ে নেমেছে।’’ পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার বলেন, ‘‘ওই এলাকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে।’’  

এ দিন দুপুরে দাঁতনের ঘোলাই মোড়ে বাঁশকোনি বুথ এলাকায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস উপলক্ষে এলাকায় পতাকা লাগাচ্ছিলেন বিজেপির কর্মীরা। বিজেপির অভিযোগ, সেই সময়ে   তৃণমূলের হামলায় তাদের ৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। তৃণমূলের দাবি, তাদেরও একজন আহত হয়েছেন। স্বপন হাঁসদা ও সুভাষ সাউ নামে দুই বিজেপি কর্মীকে প্রথে মেদিনীপুর মেডিক্যালে আনা হয়। সেখান থেকে তাঁদের কলকাতায় স্থানান্তরিত করতে হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে। এ দিনের ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে দাঁতন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। পথ অবরোধও হয়।  ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিজেপির দাঁতন দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি মোশাফ মল্লিকের দাবি, মূল দোষী এখনও ধরা পড়েনি। তৃণমূলের দাঁতন ১ ব্লকের সহ সভাপতি প্রতুল দাস বলেন, ‘‘একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। মারধরে আমাদেরও একজন আহত হয়েছেন।’’

 নয়াগ্রামের বড়খাঁকড়ি অঞ্চলের নুয়াসাই গ্রামে এ দিন বিজেপি-র উদ্যোগে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠান যখন চলছিল তখনই  গ্রামে দলীয় বৈঠক করতে যান নয়াগ্রাম ব্লক তৃণমূলের সভাপতি উজ্জ্বল দত্ত ও নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু। বিজেপি-র অনুষ্ঠান ও তৃণমূলের দলীয় বৈঠক একই সঙ্গে চলায় এলাকা তেতে ওঠে। বিজেপি-র অভিযোগ, অনুষ্ঠান ফেরত বিজেপি-র লোকজনের উপরে হামলা চালায় তৃণমূল। সুকুমার সিংহ নামে এক বিজেপি কর্মীর মাথা টাঙির কোপ মারা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে মারের চোটে বাম হাত ভেঙে যায় অঞ্জলি সিং নামে এক বিজেপি সমর্থকের। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, উজ্জ্বল দত্তের কাকা অমল দত্ত-র বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিজেপি। বিধায়ক দুলাল মুর্মুর গাড়ির কাচও ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে এ দিন এলাকায় ধিক্কার মিছিলও করে তৃণমূল। 

বিজেপি-র নয়াগ্রাম মণ্ডল সভাপতি উৎপল দাস মহাপাত্র অভিযোগ করেন, ‘‘এ দিন উজ্জ্বলের কাকার নেতৃত্বেই তৃণমূলের লোকেরা আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায়।  অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের নয়াগ্রাম ব্লক সভাপতির পাল্টা দাবি, ‘‘শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালনের নামে এ দিন বিজেপি-র লোকেরা আমার কাকার বাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুর-লুঠ করে।’’