আশ্চর্য সমাপতন।

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে এতদিন শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ছিল। যা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ থেকে ওই সব নেতাদের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছিল জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ও শ্রমিকদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা দিবাকর জানা, সেলিম আলি, বামদেব গুছাইতের বিরুদ্ধে পোষ্টার পড়েছিল মেচেদা বাজারে।

এ বার সেই একই অভিযোগ তুলে পোস্টার পড়ল বিজেপির বিরুদ্ধে। রেশন ও গ্যাসের ডিলারশিপ, দলের অঞ্চল ও মণ্ডল সভাপতি পদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে দলের তমলুক জেলা সভাপতি নবারুণ নায়েকের বিরুদ্ধে বুধবার সকালে সেই মেচেদা বাজারের বিভিন্ন জায়গায় ও জাতীয় সড়কের ফ্লাইওভারের দেওয়ালে পোস্টার পড়ায় এলাকা শোরগোল পড়ে।

বিজেপি জেলা সভাপতির ছবি ও নাম দিয়ে ওই পোস্টারে অভিযোগ করা হয়েছে ‘বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রেশন ও গ্যাসের ডিলারশিপ (উজ্জ্বলা যোজনা) পাইয়ে দেওয়ার জন্য এবং অঞ্চল ও মণ্ডল সভাপতি পদ পাইয়ে দিতে যে কাটমানি নিয়েছে তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। সৌজন্যে পূর্ব মেদিনীপুর বিজেপি সভ্যবৃন্দ’।

উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের ফল বেরোনো পরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন করেছে। পয়লা জুলাই বিজেপির তমলুক জেলা সভাপতি পদে নিযুক্ত হন নবারুণ নায়েক। এর আগে জেলা সভাপতি পদে ছিলেন প্রদীপ দাস। নবারুণ ছিলেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু জেলা সভাপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার পর মাস ঘোরার আগেই নবারুণের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পোস্টার পড়ায় অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রধান বিরোধীদলের নেতারা। যদিও ওই পোস্টারে যে ভাবে ‘বিজেপি সভ্যবৃন্দ’ নাম দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নিয়ে নবারুণ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘মাত্র ১৭ দিন আগে আমি জেলা সভাপতি পদে এসেছি। রেশন, গ্যাস ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তাই এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদি কেউ এই ধরনের অভিযোগ জানাতে চান তা হলে তাঁর জন্য আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত আমাদের দলের জেলা কার্যালয়ে আমি থাকব। তাঁরা এসে সরাসরি  অভিযোগ করুন।’’

নবারুণের  পাল্টা অভিযোগ, ‘‘আমাদের দলের অঞ্চল সভাপতি পদ নেই। তাই যারা ‘বিজেপি সভ্যবৃন্দ’ বলে এমন পোস্টার দিয়েছে তারা আমাদের দলের কেউ নয়। আসলে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ ওই এলাকায় মানুষের সমর্থন হারিয়ে ফেলায় নজর  ঘোরাতেই তৃণমূলের লোকজন এ সব পোস্টার দিয়েছে।’’

তৃণমূলের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক আহ্বায়ক শরৎ মেট্যা বলেন, ‘‘পদ পাইয়ে দেওয়া ও গ্যাস, রেশন ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে বিজেপি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে পোস্টার দিয়েছে ওদের দলেরই লোক। এর আগেও বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। দলের গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই ওই পোস্টার দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত নন।’’