সদস্য সংগ্রহ অভিযানে কোলঘাটে এসেছিলেন। সেখানে ওই অভিযান সম্পর্কে দলীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিলেন প্রাক্তন আইপিএস তথা বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ। দলে যাঁরা যোগ দিতে চাইছেন, তাঁদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়ার নিদান দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, যে সব তৃণমূল নেতারা বিজেপি’তে যোগ দিতে চাইছেন, ভারতী আসলে তাঁদের কথায় বোঝাতে চেয়েছেন।    

ভারতী শনিবার বিজেপি’র কোলাঘাট মণ্ডলের দলীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন। বিকেল ৪টায়  কোলাঘাটের কাঠচড়া ময়দানের ওই কার্যালয়ে পৌঁছে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। পরে শতাধিক তৃমমূল নেতা- কর্মীর হাতে ভারতী বিজেপি’র পতাকা তুলে দেন। ওই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বুথে বুথে ২৫ জন করে যে নতুন সদস্য সংগ্রহের কর্মসূচি শুরু হবে, তাতে যে সব নেতাদের দলে নেবেন, তাঁদের সম্পর্কে একটু ভাল করে খোঁজ খবর নেবেন। আমরা তৃণমূলের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে নেই। বিজেপিতে তৃণমূল নেতাদের প্রয়োজন নেই। আমরা নিজেদের শক্তিতেই চলতে পারি।’’

এর পরেই বিজেপি নেত্রী কাটমানি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। ভারতী বলেন, ‘‘তৃণমূলের নেতারা মৃতদেহ আটকেও কাটমানি নিয়েছেন। এসব কি মুখ্যমন্ত্রী জানতেন না? নিজের ভাবমূর্তি ফেরাতে একজনের পরামর্শে উনি কাটমানি ফেরতের কথা বলছেন। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কয়েক কোটি টাকার যে চুক্তি উনি করেছেন, তাও কাটমানির টাকা। জনগনের কষ্টের টাকা। উনি আর নিজের ভাবমূর্তি ফেরাতে পারবেন না।’’

এ দিন একদিকে কাটমানি নিয়ে ভারতী যেমন মমতাকে আক্রমণের করেছেন, তেমনই তাঁর সভাতেই এক বিজেপি কর্মী দলের নেতার বিরুদ্ধে কাটমানি নিয়ে সরব হয়েছেন।  ভারতীর বক্তব্য শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সভা মঞ্চের সামনে থাকা ওই বিজেপি কর্মী স্থানীয় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে চিৎকার শুরু করেন। মঞ্চে বসে থাকা বিজেপি নেতারা উঠে গিয়ে তাঁকে ক্ষান্ত করেন। এই প্রসঙ্গে ভারতীর অবশ্য ব্যাখ্যা, ‘‘আমি যেখানেই বক্তৃতা করি, সেখানেই এরকম একজনকে পাই। তৃণমূল এঁদের শিখিয়ে পাঠিয়ে দেয়।’’ 

এদিনের সভায় ভারতীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি’র তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নবারুণ নায়েক, সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি শেখ সাদ্দাম হোসেন, কোলাঘাট মণ্ডল-৩ এর সভাপতি দেবব্রত পট্টনায়েক প্রমুখ।