তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা। তারপর বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাঁক পাড়ল তারা— ‘দাদু দরজা খলুন। ঠাকুমা অসুস্থ।’ দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল ডাকাত দল। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে বেঁধে রেখে চলল লুটপাট। ‘অপারেশন’ শেষে ঠান্ডা জলের বোতল হাতে ধরিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। 

শুক্রবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার হোসেনপুর গ্রামে এই ডাকাতির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। যান ঘাটালের এসডিপিও কল্যাণ সরকার। তবে দুষ্কৃতীদের নাগাল পায়নি পুলিশ। এসডিপিও বলেন, “দুষ্কৃতীদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।” 

শুক্রবার মাঝ রাতে দাসপুর থানার হোসেনপুরে সুধাংশু রায়ের বাড়িতে হানা দেয় ছ’-সাত জনের দুষ্কৃতী দল। বাড়িতে থাকেন বৃদ্ধ দম্পতি। এক ছেলে বাইরে সোনার কাজ করে। আর মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দুষ্কৃতীরা বাড়ির মূল গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছিল। আলাদা ঘরে ছিলেন সুধাংশুবাবু ও তাঁর স্ত্রী মিনতিদেবী। সুধাংশুহবাবুর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। তবে গরমের জন্য মিনতিদেবী দরজা খুলেই ঘুমোচ্ছিলেন। দুষ্কৃতীরা প্রথমে বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে তাঁকে ঘুম থেকে তোলে। তারপর টিনের বাক্স, খাটের তলায় খোঁজাখুঁজি করে নগদ কয়েক হাজার টাকা লুট করে করে তারা। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

তবে দুষ্কৃতীরা বৃদ্ধার গায়ে হাত দেয়নি। পরে তারা যায় সুধাংশুবাবুর ঘরে। সুধাংশুবাবুর কথায়, “ওরা বলে ঠাকুমা খুব অসুস্থ। ডাক্তারখানা নিয়ে যেতে হবে। দরজা খলুন। আমি অতশত না বুঝে দরজা খুলে দিই। পরে বুঝি বাড়িতে ডাকাত পড়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধের ঘর থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। তার আগে বৃদ্ধ দম্পতিকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে সুধাংশুবাবুর হাত বেঁধে দেয়। খাটে এক বোতল জল রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।

রাতেই বৃদ্ধ দম্পতির চিৎকারে পড়শিরা জড়ো হন। খবর দেওয়া হয় দাসপুর থানায়। পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশ  জানিয়েছে, চারজন ভিতরে ঢুকেছিল, বাকি দু’জন বাইরে নজরদারি চালাচ্ছিল। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।