পুজো মিটতেই ফের জেলায় আসছেন তৃণমূলের অভিনেতা-সাংসদ দেব। দলের কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৫ নভেম্বর নিজের নির্বাচনী এলাকা ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের কর্মীদের নিয়ে ডেবরায় এই বৈঠক হওয়ার কথা। তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “৫ নভেম্বর দেব জেলায় আসবেন। ডেবরায় কর্মী বৈঠক করবেন। তিনি সবংয়েও যাবেন।” ডেবরা থেকে সবংয়ে গিয়ে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ দেবেন দেব। থাকবেন বিধায়ক মানস ভুঁইয়াও।

তৃণমূলের এক সূত্রে খবর, খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান, দেব নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসুন। সেই মতোই এই আয়োজন। এ বার দুর্গাপুজোর সময়ও দেব জেলায় এসেছিলেন। নিজের নির্বাচনী এলাকায় একাধিক পুজোর উদ্বোধন করেন, জনসংযোগও সারেন। জেলা তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “তারকা- সাংসদেরা সময় করে জেলায় এলে কর্মীরা খুশি হন। কর্মীদের সঙ্গে একটা সংযোগ থাকে। জনসংযোগও হয়। না- হলে সংযোগ শুকিয়ে যেতে পারে!”

লোয়াদা সেতুর জমি জট কাটাতেও তৎপর হয়েছেন সাংসদ দেব। ৫ নভেম্বর জমি মালিকদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন তিনি। দেবের সাংসদ প্রতিনিধি অলোক আচার্য বলেন, “লোয়াদা সেতুর সমস্যা শোনার পরে সাংসদ নিজেই জমি জট কাটাতে আলোচনার কথা বলেছেন। তাঁরই পরামর্শে বৈঠক ডাকা হয়েছে।’’ ডেবরার সঙ্গে কেশপুর ও দাসপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে লোয়াদাতে কাঁসাই নদীর উপর ২০০৩ সালের মার্চে সেতু নির্মাণ শুরু হয়। তবে সংযোগকারী রাস্তার অভাবে সেতুটি চালু করা যায়নি। ওই রাস্তার জন্য নন্দবাড়ি ও ফতেবাড়, নরহরিপুর মৌজায় প্রায় সাড়ে ৬ একর জমির প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় ১২ বছরের চেষ্টায় মাত্র এক একরের কিছু বেশি জমি কিনতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, মূলত জমির দাম নিয়েই বেধেছে সমস্যা। যদিও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরি বলেন, “রেজিস্ট্রি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার জমির দাম নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে তো কারও কিছু করার নেই।” এ বার তারকা সাংসদ আসরে নামার পরে জট কাটে কিনা সেটাই দেখার। অলোকবাবু অবশ্য বলেন, “সাংসদ প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। আশা করছি, সমাধান সূত্র বেরোবে।”