• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পছন্দের অফিসার! নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক পুরসভায়

Letter
পুরপ্রধানের এই চিঠি ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নিজস্ব চিত্র

এগজিকিউটিভ অফিসার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক বেধেছে শিল্পশহরের পুরসভায়। নির্দিষ্ট একজনকে ওই পদে নিয়োগ করতে চেয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে চিঠি দিয়েছিলেন হলদিয়ার পুরপ্রধান। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতির আঁতাতের অভি‌যোগও তুলেছে বিরোধীরা। এ ভাবে কারও নাম সুপারিশ করা যায় কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

হলদিয়ার পুরপ্রধান শ্য়ামল কুমার আদক এ নিয়ে কিছুই বলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটা পুরসভার অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিষয়ে কোনও কথা বলব না।’’ তবে পুরসভা সূত্রে খবর, গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে হলদিয়া পুরসভায় এগজিকিউটিভ অফিসারের পদ শূন্য। ওই পদে ছিলেন আগে ষাটোর্ধ্ব রবীন্দ্রনাথ জানা। তমলুক থেকে যাতায়াতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে ও এর ফলে কাজে অসুবিধা হচ্ছে এই মর্মে এগজিকিউটিভ অফিসার পদে তাঁর চুক্তিপত্রের পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। এরপর পুর কর্তৃপক্ষের তরফে গত ১৬ জুলাই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে চিঠি দিয়ে বর্তমানে হলদিয়া মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর বিশ্বাসকে ওই পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিতর্কের সূত্রপাত এখানেই।
 
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রেখবর, এগজিকিউটিভ অফিসার চাওয়ার ক্ষেত্রে একজন পুরপ্রধান কর্মরত কোনও সরকারি আধিকারিক কিংবা অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকে পাঠানোর কথা বলতে পারেন। কিন্তু এ ভাবে সরাসরি চিঠি দিয়ে কারও নাম সুপারিশ করা যায় না। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে মৌখিক ভাবে অনুরোধ করা হলেও কাউকে নিয়োগ করার সুপারিশ লিখিত ভাবে করা যায় না।’’
 
হলদিয়ার বাম বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের যুক্তি, ‘‘যদি বয়স এবং দূরত্বের জন্য সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে নগরোন্নয়ন দফতরকে নতুন আধিকারিকের কথা বলা যেত। আমাদের আমলেও এমন চিঠি দেওয়া হত। কিন্তু কখনই কারও নাম উল্লেখ করে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই কোনও অভিসন্ধি রয়েছে।’’ যাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, হলদিয়ার সেই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
 
বস্তুত, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরও পুরসভার প্রস্তাবে সায় না নীলেশ মহাপাত্র নামে এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিককে হলদিয়া পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার নিয়োগ করেছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই মর্মে দফতর নির্দেশও দেয়। নিয়মানুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে সেই নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হয়। পুরকর্মীদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওই আধিকারিক পুরসভায় এলেও কাজে যোগ না দিয়েই চলে যান। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। 
 
বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নবারুণ নায়েকের অভিযোগ, ‘‘ওই প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে পুর-কর্তৃপক্ষের কাটমানি নিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারার সমঝোতা হয়ে গিয়েছে। তাই পুরকর্তৃপক্ষ এমন প্রস্তাব দিয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিক যে দলদাসে পরিণত হয়েছেন এটাই তার প্রাঞ্জল উদাহরণ।’’ 
 

বিজেপির এমন মন্তব্য নিয়ে হলদিয়া শহর তৃণমূল সভাপতি মধুরিমা মণ্ডল বলেন, ‘‘রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিরোধীরা এমন সব ভিত্তিহীন অভিযোগ করে আসছে। এ সবের কোনও উত্তর হয় না।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন