• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভিডিয়োয় ভর্ৎসনা, মমতার নজরে দুই ডিএম

CM
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ছবি পিটিআই।

করোনা মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত তিনি? একটার পর একটা প্রশ্ন করে জানতে চাইছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েষা রানি, চেষ্টা করছিলেন জবাব দেওয়ার। কিন্তু জবাবগুলি তেমন সন্তুষ্ট করতে পারেনি মুখ্যমন্ত্রীকে। একসময় তো তিনি বলেই ফেললেন, ‘‘তুমি তো একটা ডিএম, আমার থেকে তোমার বেশি জানা উচিত।’’ ভিডিয়োর পর্দায় স্পষ্ট ফুটে উঠল তাঁর বিরক্তি।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রাজ্যের সব জেলাশাসক ও স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে ভিডিয়ো বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যেমন ঝাড়গ্রামের জেলাশাসককে কার্যত ভর্ৎসনা করেছেন তিনি, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমলের উদ্দেশেও তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘আমরা কাজটা কিন্তু খুব সিরিয়াসলি করছি। মেদিনীপুর হাসপাতালে তোমরা যে ভাবে অল্পে কাজ সেরেছো, এতে আমি রিয়্যালি সরি। তোমাদের বোঝা উচিত, একটা রোগী থেকে ৫০টা রোগীর গায়ে রোগ ছড়াবে। ৫০টা ডাক্তার অসুস্থ হবে, ৫০টা সিস্টার অসুস্থ হবে।’’

পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম এই দুই জেলার ক্ষেত্রে মমতার উদ্বেগ ছিল মূলত হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলাকে কেন্দ্র করে। ভিডিয়ো বৈঠকে মেডিক্যা‌লের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডুর কাছে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অধ্যক্ষ তাঁকে জানান, মেদিনীপুরে আইসোলেশন ওয়ার্ড পৃথক জায়গাতেই রয়েছে। ওয়ার্ডটা রয়েছে হাসপাতাল চত্বরেই। তবে সেটা ছোট। এতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘মেদিনীপুর কিন্তু হ য ব র ল হয়ে যাবে। এটা কিন্তু হতে দেওয়া যাবে না।’’ আর জেলাশাসককে পরামর্শ দেন, কাজে আরও যত্নশীল হওয়ার। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, বড় আইসোলেশন ওয়ার্ড করার জন্য দু’টি হাসপাতাল দেখে রাখা হয়েছে।   

 ভিডিয়ো বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আয়ুষ হাসপাতালে শয্যা পাতুন। ওখানে আলাদা আইসিসিইউ তৈরি করুন। ওখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড হবে।’’ স্বাস্থ্য সচিব বিবেক কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ‘‘প্লিজ টেক কেয়ার। আয়ুষ হাসপাতালকে ৫০ বেডের আইসোলেশন করে দাও। আয়ুষটাকে সেটআপ করে দাও। যুদ্ধকালীন তৎপরতা নিয়েই এটা করতে হবে।’’ 

একই বিষয়ে কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর কোপের মুখে পড়তে হয়েছে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসককে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন,  ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালকে করোনার চিকিৎসাকেন্দ্র করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ঝাড়গ্রাম আদিবাসী এলাকা। এসব নিয়ে ‘সেন্টিমেন্ট’ তৈরি হচ্ছে। জেলাশাসক জানান, রোগীর পরিজনদের নির্মীয়মান নাইট শেল্টার ভবনটিতে কোয়রান্টিন সেন্টার করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরে হলেও নাইট শেল্টার ভবনের প্রবেশপথ আলাদা বলে জানান জেলাশাসক। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, প্রবেশপথ আলাদা হলেও নাইট শেল্টারটি হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে। ফলে ওখানে করোনার চিকিৎসা কেন্দ্র করা যাবে না। জেলাশাসক জানান, ঝাড়গ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল নেই। অরণ্যশহরের জনবহুল এলাকার মধ্যে ৩০ শয্যার নার্সিংহোম রয়েছে। কিন্তু সেখানে জনবহুল এলাকা বলে সমস্যা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসককে বলেন, ‘‘ওখানে হবে না, প্লিজ অ্যান্ডরস্ট্যান্ড দ্য গ্রাভিটি অফ সিটুয়েশন।’’ ঝাড়গ্রাম শহরের উপকন্ঠে বাঁদরভুলার বন উন্নয়ন নিগমের প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্র এবং পর্যটন উন্নয়ন নিগমের রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে কোয়ারান্টিন সেন্টার করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক  জানান, বাঁদরভুলার প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রের একটি অংশে রামকৃষ্ণ মিশনের শাখার আবাসিকেরা রয়েছেন। সমাধান করে দেন মমতা। 

ঝাড়গ্রামের জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘তুমি কী-কী করলে কাল সকালে দশটার মধ্যে আমাকে লিখে জানাবে। ঝাড়গ্রাম নিয়ে আমার খুব চিন্তা রয়েছে। আয়েষা বুঝলে তো সব। না বুঝলে আমায় জিজ্ঞেস করে নিও।’’ আর আয়ুষ হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে মমতার সাবধানবাণী, ‘‘স্থানীয় ডেকরেটর্সদের নিয়ে বেড তৈরি করিয়ে নিও। বেড যেন ভেঙে না পড়ে।’’  

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন