• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হাসপাতালের পথে মৃত বৃদ্ধ

Death
প্রতীকী ছবি।

রিপোর্ট এল পজ়িটিভ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বুধবার রাতে হাসপাতালের পথেই মৃত্যু হল করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের।

দাঁতন ২ ব্লকের জেনকাপুর পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনায়  বাড়ছে উদ্বেগ। মাঝে একটু কমলেও ফের খড়্গপুরে বাড়ছে সংক্রমণ। গোটা মহকুমায় একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন। ব্লক ভিত্তিক ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দাপট দেখাচ্ছে করোনা। খড়্গপুর মহকুমায় যে ১৯জন আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে খড়্গপুর শহরের ৪জন রয়েছেন। অবশ্য গত কয়েকদিন মহকুমার সবং, ডেবরায় যেভাবে করোনার সংক্রমণ দেখা যাচ্ছিল সেখানে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবে করোনা এ বার দাপট দেখিয়েছে দাঁতন-২ ব্লকে। একদিনে এই ব্লকে ৮জন আক্রান্ত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, দাঁতনের জেনকাপুরের মৃত বছর ৯২ এর ওই বৃদ্ধের পরিবারের আরও তিনজন আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে শালবনি করোনা হাসপাতালে ভর্তি। পরিবার ও প্রশাসন সূত্রে খবর, কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধ জ্বরে ভুগছিলেন। জ্বর ছিল তাঁর বড় ছেলেরও। পরে উপসর্গ দেখা দেয় তার স্ত্রী ও অন্যান্যদের। চিকিৎসক দেখিয়েও জ্বর না সারায় প্রায় ছয়দিন পর গত সোমবার ৩ অগস্ট খণ্ডরুই গ্রামীণ হাসপাতালে করোনা রিপোর্টের জন্য লালরসের নমুনা দেন পরিবারের আটজন। মঙ্গলবার দুজনের নেগেটিভ এলেও বাকিদের রিপোর্ট অমীমাংসিত ছিল। বুধবার রাতে চারজনের রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। রাতেই স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন একই পরিবারের চারজনকে গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছোতে পারেননি বৃদ্ধ। করোনাতে নয়, গাড়ির ধকল সইতে না পেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারটির। দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধের হার্টের সমস্যা ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার। গাড়ির ধকলে হৃদপিণ্ড বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। তবে এ নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দাঁতন ২ ব্লকের খণ্ডরুইয়ের আরও ৩জন, হরিপুরের ১জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক মাস খানেক আগেই চেন্নাই থেকে ফিরেছিলেন। ফের চেন্নাইতে ফেরার আগে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। এতদিন পরে কীভাবে তাঁরা পজ়িটিভ হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মোহনপুরের বেলাবারুনিয়ার বাসিন্দা এক পরিযায়ী শ্রমিক সুরাত থেকে দিন তেরো আগে ফিরেছিলেন। আক্রান্ত হয়েছেন তিনিও।

খড়্গপুর শহরে নতুন করে ৪জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সাউথসাইডের বাসিন্দা এক যুবতী, ঝাপেটাপুরের বাসিন্দা এক যুবক ও সোনামুখীর বাসিন্দা এক প্রৌঢ় রেলকর্মী। রেল যোগেই তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অনুমান স্বাস্থ্য দফতরের। তাছাড়া ইন্দার গোয়ালাপাড়ার এক যুবক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কেশিয়াড়ির মুড়াকাটাতেও এক নবতিপর আক্রান্ত হয়েছেন। বছর নব্বইয়ের ওই বৃদ্ধার নাতির রিপোর্টও পজ়িটিভ। বেলদার রবীন্দ্রনগরের তিনজন ও বেলদার বাখরাবাদের ১জন আক্রান্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস পালের কথায়, “এখন দেখা যাচ্ছে আক্রান্তদের সকলেই স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন।’’

 

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও। 

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন