রেলশহরে বন্‌ধের প্রভাব পড়লেও, জেলার বাকি অংশে কিন্তু ছিল উল্টো ছবি।

সোমবার মেদিনীপুরে বন্‌ধের সমর্থনে সকাল থেকেই পথে নামে কংগ্রেস, বামেরা এবং এসইউসি। পৃথক ভাবে শহরে মিছিল করে তারা। স্কুল, কলেজের সামনে বন্‌ধের সমর্থনে প্রচারও চালানো হয়। জেলাশাসকের দফতরের সামনে, কালেক্টরেট মোড়ে অবস্থান- বিক্ষোভও করেন কংগ্রেস নেতারা। মেদিনীপুরের ডাকঘর বন্ধ করার চেষ্টা করেন কয়েকজন কংগ্রেস নেতা- কর্মী। সকাল থেকে এসইউসিও পিকেটিং করে। পুলিশের সঙ্গে এসইউসি কর্মীদের এক সময় বচসাও হয়। এসইউসির দাবি, তৃণমূল নেতারা স্কুল- কলেজ- অফিসের গেটে দাঁড়িয়ে থেকে বন্‌ধ ভাঙার চেষ্টা করেছেন। এসইউসির জেলা সম্পাদক নারায়ণ অধিকারী বলেন, “জেলাবাসী ধর্মঘটকে সমর্থন করেছেন। আমরা জেলাবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” বন্ধের সমর্থনে মিছিল করেছে বামেরাও।

পথে নেমেছে তৃণমূলও। মেদিনীপুর শহর জেলার সব ব্লক, শহরে দলের কর্মীরা মিছিল করেছেন। একেবারে সকালের দিকে অবশ্য মেদিনীপুরে বাস কম চলেছে। কিছু দোকানপাটও বন্ধ ছিল। বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত দাশ বলেন, “সকালের দিকে কিছু বাস হয়তো চলেনি। কিছু দোকানপাট হয়তো খোলেনি। তবে সে সব ভয়ের কারণে। জনজীবন স্বাভাবিক রেখেই মানুষ কংগ্রেস, সিপিএমকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন।” বন্‌ধে সাড়া পড়েনি গড়বেতা, গোয়ালতোড়, চন্দ্রকোনা রোড এলাকায়। এ দিন ঘাটাল মহকুমার সমস্ত স্কুল-কলেজ সহ সরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা  ছিল। তবে ঘাটাল আদালতে বন্‌ধের জেরে আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বন্‌ধের সমর্থনে ঘাটাল শহরে মিছিল করে এসইউসি। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সুনীল অধিকারী বলেন, “আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। কিছু ক্ষেত্রে ভাল সাড়াও মিলেছে।”

এ দিন ঝাড়গ্রাম শহর সহ জেলার সর্বত্র বেশির ভাগ দোকান বাজার খোলা ছিল। স্কুল, কলেজ, ব্যাঙ্ক, অফিস-আদালত সবই খোলা ছিল এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়েছে। সরকারি বাস চললেও বেসরকারি বাস অবশ্য চলেনি। দোকান বাজারে লোকজনের ভিড় ততটা ছিল না।