দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে ‘খাসতালুক’ আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। প্রচারে গিয়ে ক্ষোভের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাঁকে। ক’ দিন আগে গোলবাজারের গিয়ে রেলের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ শুনতে হয়েছিল তাঁকে। এ বার মুসলিম এলাকায় গিয়ে শুনতে হল এনআরসি-ক্ষোভ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই খড়্গপুরে চেনা ভঙ্গিতে প্রচার চালান  দিলীপ। প্রাতর্ভ্রমণে পৌঁছে যান পাঁচবেড়িয়ার সাত্তারচকে। ‘চায়ে পে চর্চা’য় চলে জনসংযোগ। কয়েকটি সভাও করেন দিলীপ। সংখ্যালঘুর ওই এলাকাতেই স্থানীয় সাংসদ দিলীপকে এক যুবক প্রশ্ন করেন, “এত দিনে এলেন স্যর। আপনারা তো মুসলিমদের তাড়িয়ে দেবেন বলছেন, আবার মুসলিম এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন?” পরে দিলীপ বলেন, “সংখ্যালঘু এলাকায়  অনেকে প্রশ্ন করছিল আপনি কী করেছেন? আমি বললাম আপনার বাড়ির কাছে ফ্লাইওভার করেছি।” আর মুসলিম বিতাড়ন প্রশ্নে দলের অবস্থানে অনড় থেকেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “বাংলাদেশি মুসলিমদের তাড়িয়ে দেব।” পরে নিমপুরা থেকে একটি র‌্যালিতে প্রার্থীর সঙ্গে যোগ দেন দিলীপ। র‌্যালি শেষ হয় রামমন্দিরে। সন্ধ্যায় কয়েকটি সভাও করেন।

প্রচারে তৃণমূল প্রার্থীকেই বিঁধেছেন দিলীপ। তাঁর কটাক্ষ, “কেউ বলছেন নেতা হ্যায়, জননেতা হ্যায়, বেটা হ্যায়। কিন্তু এই বেটা ‘সবসে মাল লেতা হ্যায়’।” পরে শহরে গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। 

দিলীপ মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেও বুধবার থেকেই শহরে প্রচারে দেখা যায়নি তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীকে। এ দিন প্রচারে এসেছিলেন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়নের দিন শুভেন্দু বলেছিলেন, তাঁর বাবা ‘চাচা’র শিষ্য। এ দিন শিশিরও চাচা-স্মরণ করেছেন। বলেছেন, “জ্ঞানসিংহ সোহন পাল এখানে ছিলেন। দীর্ঘদিন আমরা তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করেছি। বসে থাকতেন গোলবাজারে।” প্রার্থীর সমর্থনে তাঁর আহ্বান, “আপনারা  আশীর্বাদ করুন যাতে প্রদীপ বিধানসভায় গিয়ে আপনাদের সাহায্য করতে পারে। চাচা বসে থাকতেন আমরা জানি। প্রদীপও যেন চাচাজির মতো বসে থেকে এখানে যেন কাজ করতে পারে।”

এ দিন শহরে প্রচারে এসেছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি  সোমেন মিত্র।