চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হাসপাতালে ঢুকে ডাক্তারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যায় সিসি ক্যামেরা না থাকায় মারধরের কোনও ফুটেজ নেই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে দেখা যায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরেই হাসপাতালে আরও বেশি সংখ্যক সিসি ক্যামেরা বসানোর দাবি ওঠে। যদিও আজও হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসেনি।

দাঁতন, কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড়-সহ ১০টি ব্লকের মানুষ চিকিৎসার জন্য খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন কয়েকশো রোগী চিকিৎসার জন্য বহির্বিভাগে আসেন। অন্তর্বিভাগে ভর্তি থাকেন কয়েকশো রোগী। বর্তমানে হাসপাতালে ১৬টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। যদিও এই সংখ্যক ক্যামেরা দিয়ে গোটা হাসপাতাল চত্বরে নজরদারি চালানো সম্ভব নয় বলে অভিযোগ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের করিডরে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনার পরে আরও সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। গত ১৫ মার্চ নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। জানানো হয়, হাসপাতালে আরও ২০টি সিসি ক্যামেরা বসানো প্রয়োজন। পরে অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে নতুন করে ১৬টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। তারপরে ছ’মাস কেটে গেলেও ওই সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ এখনও শুরুই হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসক অনিরুদ্ধ ঘোড়ই বলেন, “গত ফেব্রুয়ারি মাসের ওই ঘটনার পরে আমরা সকলেই আতঙ্কিত। সর্বত্র সিসি ক্যামেরা না থাকায় এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে অপরাধী ধরা পড়বে কি না তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছি। আরও ক্যামেরা লাগানো প্রয়োজন।”

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারি ফেডারেশনের হাসপাতালের শাখার উপদেষ্টা দিলীপ সরখেল বলছিলেন, “আরও ক্যামেরা বসানোর জন্য আমরা সুপারের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কিছুই হয়নি।” হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাসপাতালে ১৬টি সিসি ক্যামেরা বসাবে স্বাস্থ্য দফতর। তবে কবে কাজ হবে জানি না।” এ বিষয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, “নিশ্চয় আরও সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। বর্তমানে এই কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেব।”