সশস্ত্র ডাকাত দলের হানায় টাকা লুটের গল্প ফেঁদেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বহুজাতিক অনলাইন সংস্থার গুদাম থেকে ৪৬ লক্ষ টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেফতার হলেন ওই সংস্থারই দুই আধিকারিক এবং এক প্রাক্তন কর্মী। উদ্ধার হয়েছে লুট হওয়া টাকা।

সোমবার দুপুরে পাঁশকুড়ার উত্তর মেচগ্রামের কাছে বাঁশতলায় একটি অনলাইন সংস্থার গুদামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ৪৬ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। গুদামের দায়িত্বে থাকা সেন্টারের ম্যানেজার বিশ্বজিৎ মুর্মু প্রথমে দাবি করেছিলেন, দুপুর ২টা নাগাদ চারজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী মোটরসাইকেলে চেপে এসেছিল। তারা তাঁর কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে গুদামের লকারে থাকা ৪৬ লক্ষ টাকা লুট করে এবং পালানোর সময় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও নষ্ট করে দেয়।  

ঘটনার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার পাঁশকুড়া  থানার  পুলিশ এবং জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জেরায় বিশ্বজিতের কথায় অসঙ্গতি দেখা যায়। এক সময় তিনি ভেঙে পড়েন। বিশ্বজিৎই পুলিশকে জানায়, ওই লুটের ঘটনায় তিনি নিজে এবং সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার উজ্জ্বল দত্ত ও  প্রাক্তন কর্মী শ্রীদীপ সরকার জড়িত রয়েছেন। বিশ্বজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে পাঁশকুড়ার রাতুলিয়া এলাকায় লুকিয়ে থাকা উজ্জ্বল ও শ্রীদীপকে গ্রেফতার করা হয়। একটি গাড়ি উদ্ধার হয়। ওই গাড়িতেই ছিল লুটের ৪৬ লক্ষ টাকা।

পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বজিতের বাড়ি খড়্গপুর গ্রামীণ থানা এলাকায়,  শ্রীদীপের বাড়ি খড়্গপুর শহরের প্রেম বাজারে এবং উজ্জ্বলের বাড়ি কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায়। উদ্ধার হওয়া গাড়িটি উজ্জ্বলের। পুলিশের দাবি, উজ্জ্বলই পুরো ঘটনার মূল পাণ্ডা।

কীভাবে ঘটেছিল ওই বিপুল টাকা লুটের ঘটনা? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন বহুজাতিক অনলাইন সংস্থার জিনিসপত্র পৌঁছানোর দায়িত্বে থাকা এক সংস্থার গুদাম-সহ ডেলিভারি পয়েন্ট রয়েছে পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে। গুদামের অফিস ঘরে থাকা লকারে কয়েকদিন ধরে ৪৬ লক্ষ টাকা রাখা ছিল। সংস্থার কলকাতা এরিয়া মানেজার উজ্জ্বল দত্ত নিজের গাড়ি নিয়ে সোমবার পাঁশকুড়ার রাতুলিয়া এসেছিলেন। এরপর পরিকল্পনা  অনুযায়ী সংস্থারই প্রাক্তন কর্মী শ্রীদীপের সঙ্গে উজ্জ্বল মোটর সাইকেলে চেপে মেচগ্রামের ওই গুদামে যায় এবং লকার খুলে টাকা নিয়ে ফের রাতুলিয়ায় পৌঁছে নিজের গাড়িতে টাকা রেখেছিল। 

পুলিশ জানিয়েছে, সংস্থার মালিকের বন্ধু অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ আধিকারিক পুদুচেরি থেকে ফোন করে লুটের ঘটনা পাঁশকুড়া থানার পুলিশকে জানিয়েছিল। গুদামের ম্যানেজার বিশ্বজিৎ এ ব্যাপারে প্রথমে কিছুই জানাননি।  ধৃতদের এ দিন তমলুক আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভি সোলেমান নেসাকুমার বলেন, ‘‘সংস্থার লকারে থাকা ৪৬ লক্ষ টাকা হাতানোর জন্য তিন জনে মিলে পরিকল্পনা করেছিল। সশস্ত্র ডাকাত দল হানার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ধৃতদের কাছ থেকে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র মেলেনি। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ-সহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’’