গ্রামে গ্রামে চোলাই আর বেআইনি মদের কারবারের রমরমায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। বেআইনি ভাটি উচ্ছেদে তাই স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা চায় আবগারি দফতর। এ জন্য ফোনে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু হচ্ছে জঙ্গলমহলের জেলা ঝাড়গ্রামে।

জেলা আবগারি দফতরের সুপার মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমাদের বিশেষ মোবাইল নম্বরে (৯৬০৯২৪৯১০৫) ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র হাজির হয়ে যাবেন আবগারি দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা। বেআইনি মদভাটি ও বেআইনি মদ বিক্রির বিরুদ্ধে নাগাড়ে অভিযান চলছে। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা দেখে আমরা এ বার ফোন নম্বরের ব্যবস্থা করছি। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।’’ প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসনের টোল-ফ্রি নম্বরটি কয়েকদিনের মধ্যে চালু হবে। সেখানেও ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। 

বেআইনি মদ ভাটির বিরুদ্ধে গত নভেম্বর থেকে জেলা জুড়ে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে আবগারি দফতর। আবগারি দফতরের দাবি, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চলছে। গত এক মাসে জেলায় ৩১৫টি জায়গায় হানা দিয়ে ৬০,৫৫০ লিটার চোলাই তৈরির তরল উপকরণ ও ৩,০৮০ লিটার চোলাই বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮২টি মামলা রুজু করা হয়েছে। 

প্রতি মাসে সাফল্যের এই খতিয়ানের সঙ্গে বাস্তবের মিল কতটা? 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, আগের তুলনায় বেআইনি চোলাই ভাটির রমরমা ভাব অনেকটাই কমেছে। তবে অভিযান শেষ হওয়ার পরে ফের চোরাগোপ্তা চোলাই তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে চোলাই কারবারিদের যোগাযোগ রয়েছে। লালগড়, নয়াগ্রাম, ঝাড়গ্রাম, বিনপুর, বেলপাহাড়ির মতো এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে ঘরে ঘরে কুটির শিল্পের মতো চোলাই তৈরি হচ্ছে। চোলাই খেয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।  আবগারি দফতরের কর্মীদের একাংশও মানছেন, অনেক ক্ষেত্রে অভিযান হয়ে যাওয়ার পরে ফের চোলাই বিক্রি হচ্ছে। কিংবা এলাকার অন্য জায়গায় চোলাইয়ের কারবার সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন ফের অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে চোলাই কারবার নির্মূল করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। 

দিন দু’য়েক আগে ঝাড়গ্রামের কন্যাডোবা গ্রামের মহিলারা আবগারি দফতরের নম্বর জোগাড় করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। মদ্যপদের হাতে নিগৃহীত পরিবারের সদস্যরা এই তৎপরতায় উৎসাহিত আবগারি দফতর। জেলা আবগারি সুপার বলেন, ওই মহিলারা যখন আমাদের নম্বর জোগাড় করে খবর দেন, ততক্ষণে চোলাই কারবারিরা চম্পট দেন। তবে স্থানীয় ৬টি ভাটির চোলাই ও চোলাই তৈরির উপকরণ বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসীর কাছে দফতরের অথবা অভিযানকারী আধিকারিকের নম্বর থাকলে আগাম খবর পেতে আরও সুবিধা বলে হবে দাবি ওই আবগারি কর্তার। সেই কারণে এবার দফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ নম্বর দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। 

বিরোধীরা অবশ্য বিঁধতে ছাড়ছে না। বিজেপি-র জেলা সভাপতি সুখময় শতপথী, সিপিএমের জেলা সম্পাদক পুলিনবিহারী বাস্কেরা বলছেন, ‘‘সরকারি ভাবে মদের ঢালাও লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। চোলাই খেয়ে মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। তারপর এই অভিযান আসলে লোকদেখানো প্রহসন।’’ যদিও ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ-সভানেত্রী রেখা সরেন বলেন, ‘‘আমরা কখনও কোনও অনৈতিক কাজকে সমর্থন করি না। বিরোধীরা সরকারের ভাল কাজ দেখতে পারে না। সবেতেই সমালোচনা করে।’’